সিসি ক্যামেরায় নজরদারি

সদরঘাটের চিত্র বদলে গেছে

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

এখন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, হকারদের দৌরাত্ম্য, কুলিদের হয়রানিসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পদে পদে ভোগান্তি নেই দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম নদীবন্দরের (সদরঘাট)। টার্মিনাল ভবনের ভেতরের প্রবেশপথগুলোতেও নেই বিশৃঙ্খলা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং। স্বাভাবিক হাঁটাচলাও করতে পারছেন যাত্রী ও পথচারীরা।

ঢাকা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তারা দেড় বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এখন যাত্রীরা এর সুফল পাচ্ছেন। এ অবস্থা ধরে রাখতে, ৩২টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দিয়ে সবসময় নজরদারি করা হচ্ছে। যাত্রীরাও বর্তমান ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিন দেখা গেল, মূল টার্মিনালের পন্টুনে কোথাও হকার নেই। যাত্রীদের জিনিসপত্র বহন নিয়ে কুলিদের মধ্যেও টানাহেঁচড়া নেই। অনেকটা সুনসানই বলা চলে। নির্ধারিত গন্তব্যে রওনা করার আগে কোনো হয়রানি ছাড়াই যাত্রীরা লঞ্চে উঠে যাচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীরা অনেকটা নির্বিঘেœই লঞ্চ থেকে নেমে যে যার গন্তব্যে যাচ্ছেন।

সদরঘাট টার্মিনালের মূল ভবন থেকে পন্টুন পর্যন্ত খালি জায়গায় একসময় ডিঙি নৌকা, ভাসমান দোকান ও বর্জ্যে ছিল ঠাসা। এ অংশ পরিচ্ছন্ন করে ভাসমান দোকান ও ডিঙি নৌকা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূল টার্মিনালে ঢুকে দেখা গেল, ভবঘুরেদের আনাগোনা নেই। সিসি ক্যামেরায় এমন কাউকে দেখা গেলে তখনই তাকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।

পুরোনো টার্মিনাল ভবন (টার্মিনাল ভবন-১) ও নতুন টার্মিনাল ভবনের (টার্মিনাল ভবন-২) নিচতলায় তিনটি শৌচাগার বেশ পরিচ্ছন্ন। নিচতলায় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর কক্ষ ও মেডিকেল সেন্টার করা হয়েছে। তবে মেডিকেল সেন্টারটি বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের সময় মেডিকেল সেন্টারগুলো ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। বাকি সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা করা হয়।

পুরোনো টার্মিনাল ভবনের ভেতরে বেশ কয়েকটি দোকান ছিল।

টার্মিনালের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এসব দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভেঙে ফেলা ওই দোকানগুলোর সামনে নদীর তীরে হরেক রকমের ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। এর কয়েকটিতে ফুলও ফুটেছে। টার্মিনাল ভবনের দক্ষিণ দিকে সড়কের পাশে বাগানবিলাসসহ নানা প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। ঢাকা নদীবন্দরে এখন হকারদের দৌরাত্ম্য নেই, পরিবেশ অনেকটাই পরিচ্ছন্ন যাত্রীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

নতুন টার্মিনাল ভবনের পশ্চিম দিকে খালি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছিল মোবাইল মার্কেট। ওই মার্কেট উচ্ছেদ করে সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, পার্কিং এলাকায়ও কোনো হকার নেই। অনেকটাই নিরিবিলি পরিবেশ। এ ছাড়া টার্মিনাল ভবনের পশ্চিম দিকে আহসান মঞ্জিল পর্যন্ত এবং পূর্ব দিকে শ্যামবাজার মসজিদ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদী তীরে হরেক রকমের গাছ লাগানো হয়েছে।

বুড়িগঙ্গা নদী থেকে একসময় আহসান মঞ্জিলের সৌন্দর্য চোখে পড়ত না। সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সামনের সড়কে থাকা ফুটপাত অবমুক্ত এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করায় বুড়িগঙ্গা থেকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যাচ্ছে। তবে আহসান মঞ্জিলের পর থেকে বাদামতলী পর্যন্ত মূল সড়কে পার্কিং করে রাখা মালবাহী ট্রাকগুলো সরানো সম্ভব হয়নি।

ঢাকা নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, যাত্রী পরিবহনের দিক দিয়ে সদরঘাট দেশের সবচেয়ে বড় নদীবন্দর। এ বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে লোকমুখে প্রচলিত বদনাম ছিল, ‘ওপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট।’ আমরা এই বদনাম ঘোচাতে দেড় বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। যাত্রীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন, তা-ই করার চেষ্টা করছি।

 

"