রাজাকারদের তালিকা মার্চে হচ্ছে

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

আগামী মার্চের মধ্যেই রাজাকারদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করতে পারবেন বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে ভারতের ত্রিপুরা থেকে ফেরার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘খুব দ্রুত রাজাকারদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এবার সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। আগামী মার্চের মধ্যেই রাজাকারদের প্রাথমিক তালিকা করতে পারব।’

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ভারত বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরাবাসীর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশ কাজ করছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারবে।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তর রেইনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) আবদুল করিমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার ও মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্ট বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগরতলা গমন করেন মন্ত্রী।

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কয়েকটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী। তখন যুদ্ধরত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করতে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল। আনসার বাহিনীকে এই বাহিনীতে একীভূত করা হয়েছিল। পরে একে আধা সামরিক বাহিনীর স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার।

একই ধরনের আধা সামরিক বাহিনী ছিল আলবদর বাহিনী ও আলশামস বাহিনী। প্রায় এক দশক আগে রাজাকারের তালিকা তৈরির দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিলেন, রাজাকারের কোনো তালিকা সরকারের কাছে নেই। তবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের খুলনায় আনসার হেডকোয়ার্টার্সে পাওয়া তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি রাজাকারের তথ্য মিলেছিল। ওই তালিকাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রয়েছে।

 

"