শিকলবন্দি জীবন!

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের টুংরাপাড়া গ্রামে ১২ বছর শিকলবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিএসসি, এজি, অনার্স পাস করা বজলুর রহমান (৪৮)। গত মঙ্গলবার টুংরাপাড়া গ্রামে মালেকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় একটি ঘরের দরজা খোলা ভেতরে পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে শিকলবন্দি অবস্থায় বসে আছে বজলুর রহমান। মেঝের মাঝখানে পুঁতা একটি বাঁকা লোহার সঙ্গে দেড়ফুট লম্বা তালাবদ্ধ শিকল পায়ের সঙ্গে লাগানো। ঘরে মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করায় প্রতিদিন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়। অপুষ্টিতে ভুগে তার শরীরে ও চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পরেছে। কোনো কিছু জানতে চাইলে প্রলাপ বকেন, স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়ায় সন্তানদের কথাও কিছু বলতে পারেন না। বজলুর রহমানের মা জানিয়েছে, ২০ থেকে ২২ বছর আগে তার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করা হয়েছে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর বিয়ে করানো হয়। বিয়ের পর শিফাত ও সুপ্তি নামে দুটি মেয়ে সন্তান হয়। পুনরায় খারাপের দিকে গেলে পাঁচ থেকে ছয় বছরের মাথায় বজলু ও দুই মেয়েকে ফেলে তার স্ত্রী চলে যায়। সে সময় মস্তিষ্ক বিকৃত হওয়ার কারণে নানা রকম তা-ব করায় নিরাপত্তার জন্য ভাইয়েরা তাকে শিকলে বেঁধে ঘরবন্দি করেন। ঘুমান কীভাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাঁটু গেরে মেঝের ওপর হয়ে কখনোবা বসা অবস্থায়। চাচাদের তত্ত্বাবধানে দুই মেয়ে লেখাপড়া চলাকালীন সিফাতের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট বোন সুপ্তি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। এ ব্যাপারে কথা হয় তার সহপাঠী ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক মানিকের সঙ্গে। তিনি জানান ৮৮ থেকে ৮৯ ব্যাচে তারা দুজনেই একসঙ্গে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি, এজি অনার্সে ভর্তি হন। বজলু এ সেকশনে সোহরাওয়ার্দী হলে আর তিনি বি-সেকশনে আশরাফুল হক হলে থেকে পড়ালেখা করতেন। তিনি জানান বজলু লেখাপড়ায় বরাবরই এগিয়ে থাকত। দেখা হলে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতেন। সেশন জটের কারণে ১৯৯৬ সনে তারা অনার্স ফাইনাল উত্তীর্ণ হন। পরিবারের লোকজন বলেছেন তারা বজলুর রহমানের মানসিক রোগের চিকিৎসা করে অনেক টাকা-পয়সা নষ্ট করেছেন, কোনো ফায়দা হয়নি। বজলুর রহমানকে এ অবস্থা হতে বাঁচানোর জন্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার। একজন কৃষিবিদকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা সরকারে অর্থ সহায়তা চেয়েছেন।

 

"