জাবিতে নাট্য সংগঠনের নেতাকে মারধর

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) খাবারের হোটেলে মোবাইল ফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে নাট্য সংগঠনের এক নেতাকে মারধর করা হয়েছে। জানা গেছে, এর সঙ্গে জড়িত আছেন অভিষেক মন্ডল নামের এক শিক্ষার্থী। মার খাওয়া মো. নুরুল ইসলাম সাইমুম পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী এবং জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের (টিএসসি) সাধারণ সম্পাদক।

গতকাল শনিবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর এ ঘটনার বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন। এ দিন সকাল ১০টার দিকে শহীদ রফিক-জব্বার হল সংলগ্ন একটি খাবারের হোটেলে এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নুরুল ইসলাম সাইমুম অভিযোগ করে বলেন, আমি সকালে খাওয়ার জন্য দোকানে বসি। সেখানে অভিষেক মন্ডলও বসেন। খাওয়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে আমার মুঠোফোনে কল আসে। এরপর আমি ১৪ সেকেন্ড কথা বলেছি। তখনই তিনি হঠাৎ ধমক দিয়ে বলেন, এই তুই এখানে বসে জোরে জোরে কথা বলিস কেন? যা ওইখানে যা। তখন আমি তাকে এ রকম আচরণের কারণ জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, তোকে যা বলেছি তাই কর। এরপর তিনি আমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। আমি পরিচয় দিলে তা শুনে তিনি আরো ক্ষেপে যান। এরপর তিনি জুনিয়রদের ফোন দেন। পরে খাওয়া শেষ করে হাত ধোয়ার সময় তিনি পেছন থেকে আমার মাথায়, কানে আঘাত করেন। তার সঙ্গে যে লোকটি ছিল, সে আমাকে ধরে রাখে। এরপর তিনি আমার গেঞ্জি ধরে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যান। পরে তিনি আশপাশ থেকে কাঠের লাঠি এনে আমাকে আঘাতের চেষ্টা করেন। আমি হাত দিয়ে কোনোক্রমে নিজেকে রক্ষা করি। এরপর তিনি ৪-৫ বার আমার পায়ে আঘাত করেন। পরে ঘটনাটি শুনে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমানসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে এলে তাদের সঙ্গেও তিনি খারাপ আচরণ করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিষেক মন্ডল বলেন, দোকানে অনেক জায়গা থাকতেও সে আমরা যেখানে খেতে বসি সেখানে এসে বসে। এরপর মোবাইলে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলে, সংগঠন নিয়ে খারাপ কথা বলে। খাবার প্লেট, টেবিল এসবে শব্দ করে। এ কারণে আমি তাকে বলি অন্য টেবিল খালি আছে, সেখানে যাও। তখন সে বলে আপনি আমাকে চেনেন? আমি থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক। এরপর আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, এটা ব্যক্তি পর্যায়ের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে নুরুল ইসলাম সাইমুমকে ‘মারধরের’ জেরে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অপরিকল্পনার অভিযোগ তুলে আন্দোলন করা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্যের পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনকারীরা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে আলোচনার জন্য ভিসি ম্যাডাম আসেন। আমরাও সেখানে ছিলাম। পরে আমরা তাকে বলি আলোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা পরিবেশ দরকার। আন্দোলনকারীদের মারধর করা হবে এটা তো চলতে পারে না। আমরা সাইমুমকে মারধরের বিচার দাবি করি। পরে ভিসি ম্যাডাম প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে বসেন। তারপর আমাদের তাদের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানান। আমরা সাদুবাদ জানাই। তবে এ ঘটনার কারণে আজ (শনিবার) আর আলোচনা হয়নি। তবে আলোচনার দ্বার খোলা আছে। ভিসি ম্যাডাম যখন বলবেন তখন আমাদের আলোচনা হবে।

"