চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক মংছেনচীং

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক মংছেনচীং মংছিন মারা গেছেন। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাঙামাটিতে বড় মেয়ে প্রিয়াংকা পুতুলের বাসায় তার মৃত্যু হয়। মংছেনচীং দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ও ব্রেইনে দুরারোগ্য মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।

মংছেনচীং ২০১৬ সালে ২০ ফেব্রুয়ারি গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক পান। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ১৯৬১ সালের ১৬ জুলাই কক্সবাজারের রাখাইন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব থেকে লেখালেখির প্রতি বিশেষ জোঁক ছিল তার। সেখান থেকেই শুরু। ১৯ বছর বয়সে ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয় মংছেনচীংয়ের প্রথম বই কক্সবাজার রাখাইন ছাত্রসমাজ।

এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে লিখে গেছেন বহু বই। মংছেনচীংয়ের মূল বিষয় ছিল রাখাইন জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, কৃষ্টি-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য নিয়ে। তার লেখায় কখনোবা উঠে এসেছে দেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনমান নিয়ে।

মংছেনচীং কক্সবাজার কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর বাইবেল বিষয়ে ডিপ্লোমা পাস করেন। পেশায় সাংবাদিক মংছেনচীং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাঙামাটি থেকে প্রকাশিত দৈনিক গিরিদর্পণের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে বসবাস করতেন। দুই কন্যাসন্তানের জনক তিনি। স্ত্রী শোভা রানী ত্রিপুরাও রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত লেখক। আজ রোববার খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে তার শেষকৃত্য হবে।

 

"