নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সংস্থা চায় সুপার শপ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন বা সংশোধনী নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র এবং সিঙ্গাপুরের মতো সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিশেষজ্ঞসহ সব স্টেকহোল্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘বাংলাদেশ সমন্বিত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে কনশাস কনজুমার সোসাইটি (সিসিএস)। আর সুপার শপের প্রতিনিধিরা বলছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে দায়িত্ব একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া উচিত। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ’র (ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) আদলে একটি সংস্থা গঠনের প্রস্তাবে সায় দেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিসিএস আয়োজিত ‘ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য : চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এই অভিমত ব্যক্ত করেন তারা। অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন পরিবেশ ও জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনবিষয়ক বিশ্লেষক এম জাকির হোসেন খান। কয়েকটি সুপারিশ তুলে তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্যসংক্রান্ত সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং কনভেনশন মেনে চলার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটাতে হবে। তার সুপারিশগুলো হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন বা সংশোধনী নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র এবং সিঙ্গাপুরের মতো সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিশেষজ্ঞসহ সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশে সমন্বিত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠনসহ খাদ্যে ভেজাল মেশানোর অপরাধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও দ্রুত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা, আমদানি পণ্যগুলোর প্রবেশ মুখে পণ্য মান পরীক্ষা করে বাজারে ছাড়া।

এসিআই কনজুমার ব্র্যান্ডসের পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, জনগণকে সচেতন করে এই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ সাধারণ মানুষ অ্যানালাইসিস না করে সরল বিশ্বাসে পণ্য কেনেন। যখনই বিশ্বাসে ঘাটতি তৈরি হয় তখন আর কিনতে চান না। এখানে প্রথম কাজটি সরকারের রেগুলেটরি বডির। তারা নিশ্চিত করবে যাতে খাদ্যে কোনো ভেজাল না আসে। আর এটা একমাত্র সম্ভব সুশাসনের মাধ্যমে।

চেইন সুপারশপ মীনা বাজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহীন খান বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যা যা করা হচ্ছে এর ফাঁকে অনেক জিনিস বাদ পড়ে গেছে যা কেউ দেখছে না। বিএসটিআই নির্দিষ্ট সংখ্যক পণ্যের

মান নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা যদি সে কয়টি পণ্যের দিকে তাকাই, তাহলে কি তাদের মান সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে? সেটা হয়ে থাকলে, সেই পণ্যে যখন ভেজাল পাওয়া যায়, তার জন্য কেন হাইকোর্টের নির্দেশ লাগবে পণ্যের উৎপাদন বন্ধ করতে? তার মানে ওই প্রতিষ্ঠানেও ভেজাল আছে যার কারণে ভেজাল পণ্যকে মার্কেট থেকে তুলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখছে না। আমার মনে হয় সর্বোপরি একটা প্রতিষ্ঠান দরকার, যদি সরকার সিরিয়াসলি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে চায়।

আলোচনায় র?্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, আমি মনে করি, সবাই মিলে কাজ করলে উৎপাদন থেকে শুরু করে সমস্যাগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত। আর একইসঙ্গে আমাদের দায়িত্বশীল যেসব সংস্থা আছে তাদের ৫২টি নিম্নমানের পণ্যের বিষয়ে আরেকটু গভীরে যাওয়া উচিত ছিল। কারণ প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ল্যাব আছে। তাদের মান নিয়ন্ত্রক বিভাগ উপেক্ষা করে এই পণ্য বাজারে কীভাবে এল? এখানে দায়ী কে ছিল? এই বিষয়গুলো দেখতে হবে।

জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, সরকার ধরাধরির জায়গায় নয় বরং সরকার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির পক্ষে। এই সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। আমাদের সুপার শপগুলো এখন অনেক স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেছে। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু এই কাজটি সমন্বিতভাবে করতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নানা পর্যায়ে আমাদের সক্ষমতার অভাব আছে। সক্ষমতা ছাড়া কর্তৃত্ব একটি সমস্যা হতে পারে। এই বাস্তবতার থেকে আমাদের উত্তরণ করতে হবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমাদের দায়িত্ব আছে, কিন্তু সেই দায়িত্ব আমাদের সক্ষমতা ছাড়া। তরুণদের বলব, এদিকে খুব বেশি নজর দিতে। এই দায়িত্ব নিজেরা নিতে চাচ্ছি কিন্তু নিজেদের সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এতে আরো বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়–য়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহকারী সম্পাদক সফিউল্লাহ আল মামুন, জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার প্রমুখ।

 

"