বিনা বেতনে ২৫ বছর পড়াচ্ছেন প্রতিবন্ধী বিউটি

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বেতন ছাড়াই শিক্ষকতা করে আসছেন কোহিনুর আখতার বিউটি নামে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষক। ফলে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় উপজেলার ছাতিনগ্রাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের এই শিক্ষিকাকে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করতে হচ্ছে।

জানা যায়, বিউটি আদমদীঘির ছাতিয়ানগ্রামের স্টেশনপাড়ার মৃত মোতাহার হোসেনের মেয়ে। তিনি চার ভাইবোনের মধ্যে বড়। দুই পায়ের হাঁটু নড়াচড়া করতে না পারায় (ফিক্সড হওয়ায়) লাঠিতে ভর করে চলতে হয়। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও তার অদম্য মেধাশক্তি দিয়ে ১৯৮৬ সালে এসএসসি, ১৯৮৯ সালে এইচএসসি ও ১৯৯৪ সালে ডিগ্রি পাস করেন। এরপর কোথাও চাকরির চেষ্টা না করে তার মামা আলহাজ লুৎফর রহমান সরকারের দানকৃত জমিতে প্রতিষ্ঠিত ওই বিদ্যালয়ে ১৯৯৫ সালে জীববিজ্ঞানের শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে এমপিওর আশায় বিনা বেতনে পাঠদান করে চলেছেন। ২০০২ সালে প্রাথমকিভাবে বিদ্যালয়টি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত করা হলে ছয়জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন। নবম ও দশম শ্রেণিতে এমপিও না হওয়ার কারণে বিউটিসহ তিনজন শিক্ষক ও একজন নৈশ্যপ্রহরী দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করে আসছেন। ফলে তারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ২৯ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২৫ জন সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়।

কোহিনুর আখতার বিউটি আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছি। আর কতদিন বিনা বেতনে পাঠদান করাতে হবে তা আমার জানা নেই। আমাদের স্কুলে প্রতি বছর এসএসসির ফলাফল অত্যন্ত ভালো। তবু কেন নবম-দশম শ্রেণিতে এমপিও হলো না, ভাবতে অবাক লাগে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, ছাতিয়ানগ্রামে নারী শিক্ষার একমাত্র এই স্কুলে ২৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সাত কক্ষবিশিষ্ট বিদ্যালয়টিতে তিনটি কক্ষ আধাপাকা ও চারটি কক্ষ কাঁচা রয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে টিনের চালা দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস নেওয়ায় বিঘœ ঘটে।

আদমদীঘি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া নবম-দশম শ্রেণিতে এমপিও করার আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায়, অচিরেই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হবে।

 

"