উৎসুক জনতার ভিড়

কলাপাড়া-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস এক যুগ পর চালু

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

দীর্ঘ এক যুগ পর ফের পটুয়াখালীর কলাপাড়া নৌরুটে ঢাকাগামী লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে দোয়া-মিলাদের মধ্য দিয়ে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে রয়েল ক্রুজ-২ নামের একটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আর এ লঞ্চটি এক নজর দেখতে কলাপাড়া লঞ্চঘাটে ভিড় জমায় কয়েক শ উৎসুক জনতা। এ লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ায় পর্যটকরা খুব সহজেই কুয়াকাটায় আসতে পারেন। এ ছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঝামেলাবিহীন তাদের মালামাল পরিবহন করতে পারবেন। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যোগ করবে এক নতুন মাত্রা।

সংশ্লিষ্ট লঞ্চঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টায় একটি লঞ্চ কলাপাড়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। আবার প্রতিদিন দুপুর ১২টায় কলাপাড়া লঞ্চঘাট থেকে অপর একটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পথে বালিয়াতলী, পায়রা বন্দর, রাঙ্গাবালির কোড়ালিয়া ও ফেলাবুনিয়া ঘাটে থামবে। এ ছাড়া এই নৌরুটে সব সময় দুটি লঞ্চ চলাচল করবে বলে জানায় ঘাট কর্তৃপক্ষ।

কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির অর্থ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বিপু জানান, অনেক দিন কলাপাড়া-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ ছিল। আমাদের জাহাজের মাধ্যমে মালামাল পরিবহন করতে হতো। জাহাজে মাল দিলে আসতে তিন থেকে চর দিন সময় লাগত। এ লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে আমরা প্রতিদিনের মাল প্রতিদিনই আনা-নেওয়া করতে পারব। পর্যটক সোহাগ রহমান জানান, তিন দিন কুয়াকাটায় থাকার পর আজ কলাপাড়া থেকে লঞ্চের মাধ্যমে সপরিবারে ঢাকায় যাচ্ছি। এ লঞ্চ সার্ভিস চালু থাকলে পর্যটকরা খুব সহজেই কুয়াকাটায় আসতে পারবেন।

ঘাট ইজারাদার তানভীর মুন্সি জানান, দীর্ঘদিন এ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকার পর আমরা চেষ্টা করে লঞ্চ সার্ভিস চালু করেছি। সবার সহযোগিতা পেলে লঞ্চ সার্ভিসটি চালু থাকবে। আর এ লঞ্চ সার্ভিসের মাধ্যমে পর্যটরা নির্বিঘেœ কুয়াকাটায় আসতে পারবেন।

পটুয়াখালী বিআইডব্লিটিএর সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান জানান, এ রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গছে। পর্যাপ্ত যাত্রী চলাচল করলে এ সার্ভিসটি চালু থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রায় ১২ বছর আগে এ রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু ছিল। এ এলাকার মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের সহজ মাধ্যম ছিল লঞ্চ সার্ভিস। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এই নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়েন কলাপাড়াসহ রাঙ্গাবালি এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

 

"