প্রেমের ফাঁদে আসমাকে ধর্ষণ হত্যা, স্বীকার বাঁধনের

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রেমের ফাঁদে ফেলে মাদ্রাসাছাত্রী আসমাকে (১৭) পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় এনে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত মারুফ হোসেন বাঁধন (১৯)। গতকাল শনিবার সকালে বাঁধনকে পঞ্চগড় থেকে গ্রেফতার করে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এক পর্যায়ে সে এ স্বীকারোক্তি দেয়। জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) এসআই আলী আকবর বিষয়টি জানান।

গত ১৯ আগস্ট সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ওয়াশ ফিল্ড এলাকায় পরিত্যক্ত ট্রেনের বগির ভেতরের বাথরুম থেকে এই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১৮ আগস্ট সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল পঞ্চগড় সদর উপজেলার একটি গ্রামের রাজ্জাক মিয়ার মেয়ে আসমা। সে গ্রামের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। গত বছর দাখিল পরীক্ষা দেয়।

এসআই আলী আকবর ওই দিন জানিয়েছিলেন, ট্রেনের বগির বাথরুম থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধারের সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় এবং তার গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঢাকায় এসে আসমার স্বজনরা তার লাশ শনাক্ত করেন। তখন আসমার চাচা রাজু মিয়া বলেন, ‘আমরা শুনেছি গ্রামের একটি ছেলের (বাঁধন) সঙ্গে আসমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আসমা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ওই ছেলেকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে ওই ছেলে জড়িত। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব বেরিয়ে আসবে।’ এরপর রাজু মিয়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন, এতে মারুফ হোসেন বাঁধনকে আসামি করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আসমার লাশের ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকরা জানান, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার আগে ধর্ষণের করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলী আকবর জানান, বাঁধনকে পঞ্চগড় থানা পুলিশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা পঞ্চগড় থেকে বাঁধনকে গ্রেফতার করে কমলাপুর থানায় নিয়ে আসি সকালে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাঁধন এই হত্যাকা- স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, প্রেমের সূত্র ধরে তারা দুজন ঢাকায় আসে ১৯ আগস্ট ভোরের দিকে এবং কমলাপুরে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে হোটেলেও খাওয়া-দাওয়া করে। একপর্যায়ে ট্রেনের ভেতরে নিয়ে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বাঁধন। বিস্তারিত তথ্য আরো জানার চেষ্টা চলছে আসামি বাঁধনের কাছ থেকে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

"