ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অবদানের জন্য কোনো স্মারক গ্রহণ করিনি

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের জন্য কোনো পুরস্কার বা স্মারক গ্রহণ করিনি। একটি সংগঠন তাদের প্রথাগতভাবে আমাকে সম্মাননা জানিয়েছে। কিন্তু এটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। আশা করি ডেঙ্গু মোকাবিলায় আমরা সফল হব। গতকাল শনিবার সকালে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। পরে তিনি ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবিগঞ্জ পৌরসভার কিচেন মার্কেটের উদ্বোধন করেন।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির’ একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও ছিলেন। তারা আমাকে একটি শুভেচ্ছা স্মারক দিয়েছে। আমি এটি গ্রহণ করেছি। কিন্তু এটির ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কোনো বিষয়কে আংশিক বা ভুলভাবে পরিবেশন করা দুঃখজনক।

মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করাই উত্তম। তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য জাতিসংঘসহ সবাই মিলে কাজ করছে। আমাদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ কাজ করছে।

পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে হবিগঞ্জ পৌরসভা আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে যখন স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই একটি গোষ্ঠী তাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে এ দেশকে আবারো ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। তাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান বলেছিলেন দেশে খাদ্য ঘাটতি থাকলে ভালো। বিদেশ থেকে সাহায্য আসে। তারা চেয়েছিল এই দেশ যেন ভিক্ষুকের জাতি হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দেশকে ভিক্ষুকের জাতির কলঙ্ক মুছে এখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিদ্যুতের অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। শিক্ষার হার এবং গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়ছে রফতানি আয়। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী। সারা দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। হবিগঞ্জ পৌরসভায় যে সমস্যাগুলো রয়েছে এর মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ময়লা ফেলার জন্য ডাম্পিং ব্যবস্থা অন্যতম। তাই এ দুইটি সমস্যাসহ সব সমস্যা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে অচিরেই সমাধান করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির এমপি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান এমপি, গাজী মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ মিলাদ এমপি, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, হবিগঞ্জ পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী খলিলুর রহমান ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মো. মুয়াইমিন প্রমুখ।

এদিকে শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিকালে রেলওয়ে পার্কিং এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের সভা এবং মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের সক্ষমতা না বাড়তে পারলে গ্রাম উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রামকে উন্নয়নের কথা বলেছেন। সেজন্য উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসেবার মান আরো উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের দায়িত্বশীলতা, কর্তব্যরোধ বাড়াতে হবে। নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা ভবনসহ বিভিন্ন অফিস নির্মাণ করা হবে। প্রাচীন স্কুল-কলেজকে সরকারীকরণ করা হবে। আমি বেঁচে থাকলে শায়েস্তাগঞ্জে আবার আসব।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও নবগঠিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রশিদ তালুকদার ইকবালের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ব্রাহ্মণডুরা ইউপি চেয়ারম্যান হুসাইন মো. আদিল জজ মিয়ার পরিচালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু জাহির। এতে আরো বক্তব্য দেন জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মাসুক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. গাজিউর রহমান ইমরান, শায়েস্তাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল খাঁন, নূরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মখলিছ মিয়া প্রমুখ।

 

"