হংকংয়ে ৬৮-তলায় উঠে শান্তি কামনা স্পাইডারম্যানের!

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

হংকংয়ের একটি ৬৮-তলা ভবন বেয়ে এর ওপর উঠেছেন ‘স্পাইডারম্যান’ নামে পরিচিত অ্যালাইন রবার্ট। বিনা কারণে অবশ্য এমন ঘাম ঝড়ানো এই কষ্ট করেননি এই ফরাসি নাগরিক। হংকংয়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে শান্তির বার্তা নিয়ে ওই ভবনে একটি ব্যানার টাঙানোই ছিল তার আসল উদ্দেশ্য এবং তা তিনি করেছেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে হংকংয়ের একটি সুউচ্চ ভবনে করমর্দনের ছবিসহ হংকং ও চীনের পতাকাখচিত একটি ব্যানার টাঙান অ্যালাইন রবার্ট। হংকংয়ে ১০ সপ্তাহ ধরে চলছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের এরই মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উঁচু ভবনে উঠার জন্য পরিচিত ৫৭ বছর বয়সি স্পাইডারম্যান। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যালাইন রবার্ট বললেন, ‘হংকংয়ের জনগণ ও সরকারের মধ্যে অতি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার বার্তা’ দিতেই হংকংয়ের ওই ভবনে আরোহন করেছেন তিনি।

রবার্ট বলেন, বোধকরি আমি যেটুকু করতে পারি তা হলো, পরিস্থিতির উত্তাপ কিছুটা কমানো এবং হয়তো মানুষের একটু হাসি ফোটানো। এটাকে আমার প্রত্যাশা বলতে পারেন আর কি। আরো অনেক আরোহণের মতো হংকংয়ের ৬৮তলা চিয়াং কং ভবনে উঠার জন্যও কোনো দড়ি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখেননি রবার্ট। এদিকে স্পাইডারম্যানের ভবন আরোহণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নেটিজেনবাসী।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত চীনা বংশোদ্ভূত শিল্পী বাডিয়ুকাও টুইটে লেখেন, ‘আপনি কি সত্যিই কসাই ও স্বৈরশাসকের সঙ্গে হাত মেলাতে চান?’ চিয়াং কং সেন্টারের মালিক এশিয়ার অন্যতম ধনী লি কা শিং। গত কয়েক সপ্তাহের সংঘর্ষের অবসান চেয়ে গতকাল শুক্রবার হংকংয়ের বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন বিলিওনেয়ার লি কা শিং। সাধারণত আগে থেকে কিছু না জানিয়ে অথবা পূর্বঅনুমতি না নিয়ে বহুতল ভবনে আরোহণ করে থাকেন রবার্ট। এর আগেও চিয়াং কং সেন্টারসহ হংকংয়ের কয়েকটি ভবন বেয়ে উঠেছিলেন স্পাইডারম্যান।

গত বছরের আগস্টে হংকংয়ের একটি আদালতে রবার্টকে শহরের কোনো ভবনে আরোহণের বিষয়ে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সে নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বছরের শুরুর দিকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার একটি ৪৭তলা ভবনে উঠার কারণে রবার্টকে পুলিশ আটক করেছিল। এর আগে রবার্ট বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টাওয়ার্স, তাইওয়ানের তাইপে ১০১ ভবন ও লন্ডনের হেরন ভবনে আরোহণ করেছিলেন। যে কোনো সন্দেহভাজন অপরাধীকে চীন সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার একটি প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে গত এপ্রিলে হংকংয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।

এ বিল বাস্তবায়ন হলে হংকংয়ের আইনি স্বাধীনতায় চীন হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাবে এবং যে কোনো সরকারবিরোধী কর্মকান্ড দমনের হাতিয়ার হিসেবে এটাকে ব্যবহার করা হবে বলে সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এর পর থেকেই হংকংয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরো বেগবান হয়। একপর্যায়ে বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিলটি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে হংকং প্রশাসন। কিন্তু তা মেনে নেননি বিক্ষোভকারীরা। তাদের দাবি বিলটি স্থায়ীভাবে বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের দাবি, হংকংবাসীদের পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নিপীড়নের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

 

"