ছোট যমুনা পারাপার

৪০ হাজার মানুষের ভরসা নৌকা : ব্রিজের দাবি

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

এম এ ইউসুফ, রানীনগর (নওগাঁ)

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কুজাইল-আতাইকুলা নামক স্থানে নওগাঁর ছোট যুমনা নদী পারাপারে তিন ইউনিয়নের বসবাসরত জনসাধারণের মাঝে সেতুবন্ধনের ভূমিকায় রয়েছে নৌকা। এ এলাকায় গ্রামীণ জনপদের ভালো যোগাযোগের ভরসা হিসেবে ব্রিজের বদলে মিরাট, গোনা ও কাশিমপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের নওগাঁর ছোট যুমনা নদী পারাপার হতে বর্ষা মৌসুমে ইজারাদারের দড়ি টানা নৌকায় ভরসা করতে হয়।

উপজেলার কাশিমপুর, গোনা ও মিরাট ইউনিয়নের অবহেলিত জনপদের মধ্যে সর্বরামপুর, কাশিমপুর, ডাঙ্গাপাড়া, এনায়েতপুর, মঙ্গলপাড়া, ভবানীপুর, পীরেরা, বয়না, বেতগাড়ী, দুর্গাপুর, কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, ঘোষগ্রাম, নান্দাইবাড়ী, বেতগাড়ী, আতাইকুলা, কুনৌজ, হামিদপুর, জালালগঞ্জ গ্রামসহ এই তিন ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা তেমন উন্নত না হওয়ায় রাষ্ট্রের অনেক জরুরি সুযোগ-সুবিধা ও সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে এই তিন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আধুনিকতার যুগে স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কাশিমপুর-মিরাট ইউনিয়নের বসবাসরত মানুষের নদী পারাপারের জন্য একটি ব্রিজের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয় প্রায় ১৫টি গ্রামের কৃষক-শ্রমিক, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীসহ প্রায় ৪০ হাজার জনসাধারণের। বর্ষাকালে নৌকাযোগে নদী পারাপার হলেও নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে স্থানীয় ইজারাদারের উদ্যোগে তৈরি বাঁশের সাঁকোই একমাত্র যোগাযোগের ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় বৃষ্টিপাত হলেই নদীর দুই পাড়ে কাদা-পানিতে একাকার হওয়ার কারণে সাঁকো থেকে পিছলে পানিতে পড়ে গুরুত্বর আহত হওয়ার মতো ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে।

জানা গেছে, রানীনগর উপজেলার সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে কাশিমপুর-মিরাট ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে বুক চিড়ে বয়ে গেছে নওগাঁর ছোট যুমনা নদী। প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে এই নদীতে কোনো প্রকার খনন কাজ না করায় দিন দিন নাব্যতা সংকটের কারণে নদীর বুকে বিশেষ বিশেষ স্থানে চর জেগে ওঠে, কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা ও নৌ-চলাচল স্বাভাবিক গতি ধরে রাখার জন্য এবং নদীর পানি প্রবাহ সচল রাখার লক্ষ্যে সরকারি পর্যায় থেকে কোনো প্রকল্প অদ্যবধি হাতে নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি যখন ফুলে-ফেপে ওঠে তখন পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই নদীর পানি কমতে থাকায় নৌকা চলাচল বন্ধ হলে জনস্বার্থেই ইজারাদার বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু বড় কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকে না। ফলে হেঁটে সাঁকো পার হয়ে তিন ইউনিয়নের বসবাসকারী জনসাধারণ তাদের প্রয়োজনের তাগিদে জেলা ও উপজেলা সদরে যেতে হয়। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোনো পথ না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পণ্যসামগ্রী সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় নায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। অনেকটা বাধ্য হয়েই ফড়িয়া ও মহাজনদের কাছে চলমান বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়। কুজাইল-আতাইকুলা নামক স্থানে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি থাকলেও সরকারি পর্যায়ে উন্নয়নের অনেক প্রকল্প আসে প্রকল্প যায় কিন্তু এই এলাকাবাসীর ভাগ্য উন্নয়নের কারো যেন মাথাব্যথা নেই। অথচ উক্ত স্থানে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত আতাইকুলার গণকবর ও রানীনগর বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে খ্যাত কুজাইলবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনসহ তিন ইউনিয়নবাসীর মধ্যে যাতায়াতের জন্য নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান কাটাসহ আনা নেওয়া খুব অসুবিধা হয়। তাই এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে সবাই উপকৃত হবে।

আতাইকুলা জনকল্যাণ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ জালাল উদ্দিন জানান, কুজাইলা-আতাইকুলা নামক স্থানে ছোট যমুনা নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে অত্র এলাকায় যোগাযোগ, ব্যবসা ও শিক্ষাব্যবস্থার আমল পরিবর্তন হবে। আমার প্রতিষ্ঠানসহ এখানকার দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্ষা মৌসুমে নৌকাতে এবং শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে এই সাঁকো দিয়েই কমলমতি ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে পড়ালেখার জন্য আসে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এই এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীসহ সবাই উপকৃত হবে।

রানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মকলেছুর রহমান জানান, কুজাইল-আতাইকুলা নামক স্থানে নওগাঁর ছোট যুমনা নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ঘটনাস্থল নির্ধারণ করে মাপ-যোগ ও ডিজাইন করে একটি প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এর প্রধান কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

 

"