স্বাধীনতা দিবসে বিরোধীদের মোদি

৭০ বছরেও ৩৭০ ধারা কেন স্থায়ী করেননি

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, গত ৭০ বছরেও কাশ্মীর সংক্রান্ত ৩৭০ ধারা কেন স্থায়ী করেননি। বিরোধীদের প্রতি প্রশ্ন রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও তিনি জল সংরক্ষণের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মন্তব্য করেন দেশের জল সম্পদ নিয়ে এখনিই সচেতন হতে হবে। মহা পরিকল্পনা নিতে হবে। দেশের মানুষকে সচেতন করতে একজন সন্তের লেখা কবিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। ১০০ বছর আগে জল সংকট নিয়ে কবিতা লিখে গিয়েছিলেন সেই মুনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উত্তর গুজরাটে একজন সন্ত থাকতেন। জৈন ধর্মাবলম্বীরা সেই সন্তকে খুব শ্রদ্ধা করতেন এবং তাকে সিদ্ধপুরুষ বলে মনে করতেন। সেই মুনি, সাধারণের মতোই জীবনযাপন করতেন, চাষবাস করতেন। সেই জৈন মুনি ১০০ বছর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, একদিন খাবার জল দোকানে বিক্রি হবে। তার সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছে। চেন্নাইয়ের মতো শহরে সত্যিই খাবার জল কিনতে দোকানে লাইন পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, স্বাধীনতার ৭০ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো দেশের অর্ধেক মানুষকে খাবার জল জোগাড় করতে রোজ অনেক কষ্ট করতে হয়। অনেক গ্রামে মানুষকে খাবার জল আনতে ২ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়। এই জলসংকট মেটাতে কেন্দ্রীয় সরকার সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বলেছেন, জল সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। হাতে আর বেশি সময় নেই।

এছাড়া স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় ঘোষণা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিন বাহিনীর সমন্বয়ে একটি নতুন পদ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর্মি, নৌ ও বায়ুসেনার মিলিত প্রধান হিসেবে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ নামে একটি নতুন পদ গঠন করা হবে। ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আর্মি, নৌ ও বায়ুসেনা, প্রতিরক্ষার তিনটি বাহিনীকেই একসঙ্গে এগোতে হবে। সেই কারণেই তিন বাহিনীর সমন্বয়ে একটি পদ গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের পরেই দেশের প্রতিরক্ষায় কোথায় খামতি রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিই চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ নিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছিল। ২০১২তেও নরেশচন্দ্র টাস্কফোর্স বিষয়টির স্বপক্ষে কথা বলেছিল।

অন্যদিকে স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে তার সরকার একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নেবে। লালকেল্লায় ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণে নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, ৭০ বছর যা হয়নি,৭০ দিনের কম সময়ে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। বাতিল হয়েছে অনুচ্ছেদ ৩৭০। জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ বিলোপ প্রসঙ্গে এভাবেই কংগ্রেসকে বিঁধেছেন নরেন্দ্র মোদি। বলেছেন, অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা অপসারণ করেছে তার সরকার। ৩৭০ বিলোপ সর্দার প্যাটেলের স্বপ্নপূরণে বড় পদক্ষেপ। মাত্র ১০ সপ্তাহেই অনুচ্ছেদ ৩৭০ অপসারিত হয়েছে। এবার জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের গৌরব ফিরবে। সন্ত্রাস, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও পরিবারতন্ত্র- ৩৭০ অনুচ্ছেদে শুধু এগুলোই মদদ পেয়েছে। ৩৭০ বিলোপে সবার অধিকার সুরক্ষিত হবে। পাশাপাশি কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে মোদি আরো বলেছেন, ৩৭০ কেন অস্থায়ী করা হয়েছিল? কেন ৩৭০ স্থায়ী করা হয়নি? কারণ কংগ্রেস জানত, যা হয়েছে তা ভুল হয়েছে। ক্ষুদ্র রাজনীতির স্বার্থে বিলোপে সাহস করেনি। আমি দেশের স্বার্থকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখি। আমি দেশের স্বার্থে রাজনীতির ধার ধারি না।

 

"