ধর্ষণকারী দুই আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

ভোলা প্রতিনিধি

ঈদের আগের রাতে হাতে মেহেদি দিতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর দুই ধর্ষক পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই ব্যক্তি স্কুলছাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি ছিল।

ভোলা সদর উপজেলায় মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে পুলিশের সঙ্গে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সৈয়দ আহম্মেদের ছেলে আল আমিন (২৫) ও কামাল মিস্ত্রির ছেলে মঞ্জুর আলম (৩০)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাজাপুর এলাকার নদীর তীরসংলগ্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চাঁদরাতে স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি নিহত হয়। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভোলা মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. ছগির আলী জানান, মঙ্গলবার রাত ৪টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাজাপুর এলাকায় জলদস্যুদের দুই গ্রুপে গোলাগুলি চলছিল। এমন সংবাদে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দস্যুরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায় দস্যুরা পলিয়ে গেলে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই ব্যক্তি চরসামাইয়া এলাকার স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার আসামি আল আমিন ও মঞ্জুর আলম। চাঁদরাতে মেহেদি দিয়ে সাজতে গিয়ে তাদের হাতে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী। নিহতদের মরদেহ ভোলা সদর হাসপাতালে রয়েছে।

উল্লেখ্য, সদর উপজেলার উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চরসিফলি গ্রামের এক কৃষক ঈদ উপলক্ষে তার আদরের দুই মেয়ের জন্য বাজার থেকে মেহেদি কিনে আনেন।

রোববার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে তাদের বাবা গরু বিক্রি করার টাকা আনতে ভোলা শহরে যান। বাবা শহরে চলে যাওয়ার পর দুই বোন রাত ৮টার দিকে প্রতিবেশী দূর-সম্পর্কের আত্মীয় মাহফুজের স্ত্রীর কাছে হাতে মেহেদি দিয়ে সাজতে যায়। ওই সময় আগে থেকে অপেক্ষমাণ মাহফুজের ঘরের ভাড়াটিয়া আল আমিন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়–য়া স্কুলছাত্রীকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় আলমিনের স্ত্রী ঘরে ছিল না। এ সুযোগে ওই ছাত্রীকে আলামিন ও তার সহযোগী মঞ্জুর আলম হাত-পা ও মুখে কাপড় বেঁধে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে ছাত্রীর চিৎকারে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধর্ষণে রক্তক্ষরণ হওয়ায় পরে ওই ছাত্রীকে সোমবার ঈদের দিন বরিশালের শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

"