জাবিতে ভর্তি ফরমের মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুদের অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে। গত ৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। তবে এ বছর প্রতিটি ইউনিটের আবেদন ফরমের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে ভর্তিচ্ছুদের গতবারের চেয়ে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে। আর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ বছর মোট ১০টি ইউনিটের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন চাওয়া হয়েছে। আর এই ১০টি ইউনিটের প্রত্যেকটির মূল্য ৫০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বছর এ, বি, সি, ডি ও ই ইউনিটের প্রতিটির জন্য আবেদন ফি’র মূল্য ৬০০ টাকা এবং সি-১, এফ, জি, এইচ ও আই ইউনিটের প্রতিটির জন্য ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ) এ, বি, সি, ডি ও ই ইউনিটের প্রতিটির জন্য আবেদন ফি ৫৫০ টাকা এবং সি-১, এফ, জি, এইচ ও আই ইউনিটের প্রতিটির জন্য আবেদন ফি ৩৫০ টাকা ছিল। ফলে এ বছর প্রতিটি ইউনিটের জন্য আবেদন ফি বেড়েছে ৫০ টাকা। এছাড়া ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে বিগত বছরের চেয়ে প্রতিটি ইউনিটের ফরমের মূল্য ২৫ টাকা বেড়েছিল। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীরা আবেদন ফরমের এই মূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আবেদন ফরমের মূল্য কমানোর দাবিও জানিয়েছেন। এমনকি একজন শিক্ষককেও আবেদন ফি’র মূল্য কমানোর দাবি জানিয়ে জাবির সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিতে দেখা গেছে। ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা আক্তার ফেসবুকে লেখেন, ‘বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফরমের মূল্য কমানো হোক।’ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার ফেসবুকে লেখেন, ‘ভর্তি আবেদন ফি’র বর্ধিত মূল্য মানি না। সবকিছু নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান বলেন, ‘ভর্তি ফি যাতে না বাড়ানো হয় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা গিয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কথা না শুনে নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জুলুম করে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে। যা আমরা মোটেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে আশা করি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক বিভিন্ন সময় প্রশাসনের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বললেও তারা ভর্তি ফি বৃদ্ধির ইস্যুতে কিছু বলছে না। কারণ এই জায়গায় তাদেরও স্বার্থ আছে। তারাও টাকার ভাগ পাবে।’

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। পরে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা এই বর্ধিত ৫০ থেকে ১০ টাকা শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য, ১০ টাকা আমাদের মেডিকেল সেন্টারের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কেমিক্যাল কিনতে ব্যয় করব। এভাবে পুরো ৫০ টাকা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হবে। এই টাকা আমরা নেব না। ছাত্রদের টাকা আমরা ছাত্রদের কল্যাণে ব্যয় করব। গত মাসে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির মিটিংয়ে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

"