পথে পথে গোখাদ্য বেচাকেনা

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পথে পথে এখন চলছে জমজমাট গোখাদ্যের ব্যবসা। পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে বিক্রি হচ্ছে গোখাদ্য। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিবর্তন করে মৌসুমি এ ব্যবসায় যোগ দিয়েছেন। তিন দিনের ব্যবসায় কিছু মুনাফা ও নগরবাসীকে সেবা দেওয়া তাদের মূল লক্ষ্য।

গতকাল শনিবার মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। মৌসুমি কয়েকজন ব্যবসায়ীর জানান, নগরবাসীকে সেবা দিতে ও সামান্য কিছু মুনাফার আশায় ঈদে বাড়িতে না গিয়ে তারা এ ব্যবসা করছেন। এ ব্যাপারে শেওড়াপাড়ার গোখাদ্য বিক্রেতা মো. বাবু বলেন, সারা বছর আমি ফলের ব্যবসা করি। আর কোরবানির ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন আগে থেকে গোখাদ্য বিক্রি করি। এটাতে আমার মোটামুটি ভালোই লাভ থাকে। এছাড়া কোরবানি ঈদের আগের দুই থেকে তিন দিন ফলের বেচাকেনা থাকে না। তাই কিছু অতিরিক্ত লাভের আশায় আজ কয়েক বছর ধরে এ ব্যবসা করছি।

‘এলাকাবাসী প্রায় সবাই জানেন কোরবানির তিন থেকে চার দিন আগ থেকে এখানে গোখাদ্য বিক্রি হয়। তাই এলাকাবাসীকে সেবা দিতে এ আয়োজন সবসময় থাকে। তবে গতবারের চেয়ে গোখাদ্যের দাম কিছুটি বেড়েছে।’

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গোখাদ্য একেক স্থানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে যে যেভাবে পারছেন ক্রেতাদের কাছ থেকে দাম নিচ্ছেন। এতে ক্রেতাদের কোনো অভিযোগ নেই। বরং হাতের নাগালে গোখাদ্য পেয়ে তারা খুশি। দেখা যায়, গোখাদ্য ছোলার ভুসি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঘাসের আটি ১০ থেকে ২০ টাকা, তুষের ভুসি কেজি ৬০ টাকা, খইল কেজি ৬০ টাকা ও খেসারি ভুসি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে অলিতে-গলিতে গোখাদ্য বিক্রি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে মৌসুমি পাইকারি গোখাদ্য ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, অলিতে-গলিতে খুচরা ব্যবসায়ী বেড়ে যাওয়া আমাদের বিক্রি নেই বললেই চলে।

এ বিষয়ে তালতলা বাসস্ট্যান্ডে পাইকারি গোখাদ্য বিক্রেতা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আগের চেয়ে ব্যবসা অনেক কমে গেছে। গত বছর ঈদের তিন দিন আগেই মালামাল শেষ হয়ে গিয়েছিল আর এ বছর পুরো মালই রয়ে গেছে। বিক্রি নেই। ‘তিন বছর ধরে এখানে হাট হয় না। আগে এখানে হাট বসত। খাদ্য বিক্রি করে কুলাতে পারতাম না। তারপরও অনেক দিন ধরে এ ব্যবসায় জড়িত আছি। এলাকাবাসী আমার কাছ থেকেই সবসময় গোখাদ্য নেন। তাই এলাকাবাসীকে সেবা দিতেই প্রতি বছরই এই সময়টায় আমি গোখাদ্য বিক্রি করি।

"