উত্তরার রাজনীতি

সাহারা খাতুনের পর কে?

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহত্তর উত্তরা তথা ঢাকা-১৮ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন-পরবর্তী নেতা হতে অনেকেই সক্রিয়। গত সংসদ নির্বাচন থেকেই কাজ করছেন নগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসান ও যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার। এর বাইরে নতুন করে মাঠে আসতে চান এলাকার শিল্পপতি নিপা গ্রুপের চেয়ারম্যান খসরু চৌধুরী। ঘুরে ফিরে নামগুলো আসলেও সবাই সাহারা খাতুনের পরেই কিছু একটা করতে চান। এজন্য নেতারা যে যার মতো প্রভাবটা ধরে রেখে সামনে এগোতে সচেষ্ট।

স্থানীয়ভাবে তৃণমূল নেতারা এখনো সাহারা খাতুনমুখী। এরই ধারাবাহিকতার মাঝেও আলোচিত নেতারা মাঠের নেতাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। গত নির্বাচনের আগের নামগুলো সবার কাছে পরিচিত হলেও নতুন একজনের আগমনের খবরে বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামী লীগে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর থেকে হঠাৎ আলোচনায় আসছেন শিল্পপতি খসরু চৌধুরী। তৈরি পোশাক শিল্পের সফল এ ব্যবসায়ী গত ঈদুল ফিতরের পর গোটা উত্তরা এলাকাজুড়ে সালাম বিনিময়ের পোস্টার লাগিয়ে মূলত আলোচনায় আসেন। রোজার ঈদের শুভেচ্ছা সংবলিত পোস্টার করলেও এবারের ঈদে তিনি তা করেননি।

জানা গেছে, এখনই নিজের অবস্থান তৈরি করতে আগেভাগেই মাঠে নেমেছেন তারা। আশা, আগামীবার ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের নমিনেশন নেওয়া। তাই বর্তমান সংসদ সদস্য সাহারা খাতুনের ছায়ায় থেকে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে বেশ তৎপর তিনি। ব্যবসায়িক ক্যারিয়ারে সফলতা পেলেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কতদূর এগোতে পারেন এটাই দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই আসনের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।

একটি ইফতার মাহফিল বাদে এখনো প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে না আসলেও যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে নামার ইচ্ছার কথা জানা গেছে। নিপা গ্রুপের কর্ণধার এ ব্যবসায়ীর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানায়। ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে পরিবারের চার ভাইয়েরই অবস্থান ঢাকার উত্তরায়। এখানে কিছু আত্মীয়তার বন্ধনেও আবদ্ধ আছে তার পরিবার। এদিকে আওয়ামী লীগের নামে তার দেওয়া পোস্টার ব্যানারে বেশ নড়ে চড়ে বসেছে বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামী লীগ। কারণ হিসেবে জানা যায়, বৃহত্তর উত্তরায় অধিকাংশ আওয়ামী নেতাকর্মীরা তাকে বিএনপি-জায়ামাত ঘরানার ব্যবসায়ী হিসেবে জানতেন।

খসরু চৌধরীর পরিবারের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে খোঁজ নেওয়া হয় তার গ্রামের বাড়িতে। একটি পক্ষ তাদের পরিবারকে আওয়ামী ঘরানার বললেও কেউই তাদের বিএনপি হিসেবে বলেনি। তবে তারা দীর্ঘদিন থেকে ঢাকায় থাকার কারণে অনেক কিছুই জানে না এলাকার স্থানীয় নেতারা। তবে ছাত্রজীবনে খসরু চৌধুরীর বড় ভাই ঢাকার সোহরাওয়ার্থী কলেজের ছাত্রলীগের আহ্বাহক ছিলেন। এ বিষয়ে খসরুর বড় ভাই শাহিন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ’৮৯ সালে আমি সোহরাওয়ার্ধী কলেজে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলাম। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। এরশাদের পতনের পর কর্মজীবনে প্রবেশ করি বলে আর রাজনীতিতে জড়ানো হয়নি। বর্তমানে তিনি রাজৈর উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ রয়েছেন।

জানা যায়, এ ব্যবসায়ীকে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা ২০০৮ সনে ঢাকা-১৮ আসনে থেকে মনোনয়ন নিতে অনুরোধ করেন। বিএনপি নেতাদের এমন দাবির বিষয়টি স্বীকার করেন খসরু চৌধুরী নিজেও। তিনি বলেন, এখানকার কয়েকজন নেতা আমাকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিতে বলেছেন, যেহেতু কামরুল সাহেব নির্বাচন করবেন না, তাই আমাকে তারা অনুরোধ করেছেন। কিন্তু আমি মনে প্রাণে আওয়ামী লীগকে ধারণ করি, বিএনপি থেকে নমিনেশন নিতে যাব কেন। ব্যবসা করি বলে অনেকের সঙ্গেই চলতে হয়।

খসরু চৌধুরীর বিষয়ে বলতে গিয়ে দক্ষিণ খান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফনো মোল্লা বলেন, শুনেছি বিএনপির আমলে তার উত্থান। বিএনপিকে স্থানীয়ভাবে টাকা পয়সা দিতেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোন যোগসূত্র আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এলাকায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এলাকার অনেককে তিনি চাকরি-বাকরি দিয়েছেন সেই হিসেবে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। তবে আওয়ামী লীগের প্রয়োজনে তাকে আমরা পাশে পাইনি। কোনো সহায়তাও কোনো দিন নেইনি। এখন কয়েক মাস থেকে কিছু লোককে পৃষ্ঠপোষকতা করেন বলে শুনেছি।

এ ব্যাপারে বিষয়ে উত্তরা ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান বলেন, তাকে আমি চিনি না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত থাকলে কোনো না কোনোভাবে তাকে হয়তো চিনতাম।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক দক্ষিণ খান ইউপির চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এটা কে না জানে, দুই দিন আগেও তারা বিএনপি করতেন, এখন আওয়ামী লীগ করেন। এটা নিয়ে বলার কি আছে। তাদের টাকা পয়সা আছে এটাই তাদের বড় যোগ্যতা।

আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় অনেকে তাদের পরিবারের আত্মীয় স্বজন জানিয়ে খসরু চৌধুরী বলেন, ছাত্রাবস্থায় সোহরাওয়ার্ধী কলেজে বড় ভাইয়ের সঙ্গে ছাত্রলীগ করেছি। তারপর সবাই মিলে ব্যবসায় মনোযোগ দিই। এখন মনে করেছি, রাজনীতি করার দরকার; তাই এ পথে আসা। তবে আমার রাজনৈতিক মুরুব্বিরা আমাকে ধীরে চলতে বলছেন।

"