প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ

প্রকাশ | ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামীকাল সোমবার এখানে সকাল ৮টায় পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত হবে।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, বিদেশি কূটনৈতিক, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ সাধারণ মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও ঈদুল ফিতরে লাখো মুসল্লি জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ঈদগাহ ময়দানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে ঈদগাহ ময়দানের প্যান্ডেল নির্মাণ, বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য ত্রিপল ও শামিয়ানা টাঙানো, অন্যান্য সাজসজ্জাসহ সার্বিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুতি কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। পরে মেয়র সেখানে ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে সাংবাদিকদদের ব্রিফ করবেন বলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ শফিউল্লাহ জানান, ঈদগাহে গতবারের মতো এবারও ৯০ হাজার থেকে এক লাখ মুসল্লির জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদাভাবে পর্দা দিয়ে নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের জন্য আলাদা প্রবেশ পথেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্যান্ডেল তৈরির কাজ করেছেন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মূলত ঈদগাহের প্যান্ডেল তৈরি, সামিয়ানা ও বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য ত্রিপল টাঙানো এবং ঈদগাহ ময়দান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজটি করে ডিএসসিসি। গণপূর্ত অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে মাটি সমান এবং গাছে রং করার কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান প্রকৌশলী শফিউল্লাহ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির ব্যাবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ২৫ জুলাই থেকে তারা ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন। প্রথম দিন থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ জন শ্রমিক দিনরাত কাজ করেছেন। ৪৩ হাজার বাঁশ এবং প্রায় ৩০০ মণ রশি দিয়ে ঈদগাহ ময়দানে প্যান্ডেল নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বলেন, ঈদের নামাজের জন্য ঈদগাহ প্রস্তুত করা এবং নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার কাজ বিভিন্ন সংস্থা মিলে করে। আমরা সিটি করপোরেশন শুধু প্যান্ডেল তৈরি, সামিয়ানা ও বৃষ্টি নিরোধক ত্রিপল, মোবাইল টয়লেট স্থাপন এবং ঈদগাহের ভেতরে ও বাইরে সার্বিক সৌন্দর্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছনতার কাজ করি।

তিনি আরো জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটিলিয়ন (র‌্যাব) ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আর মাইকিংয়ের কাজ করছে তথ্য মন্ত্রণালয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, অজুর পানি ছাড়াও খাওয়ার পানির জন্য ওয়াসাকে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কাকরাইল, মৎস্য ভবন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, দোয়েল চত্বর ও এর আশপাশের র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত থাকবে। ভিআইপির নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। সিটি করপোরেশন ছাড়াও আলাদা ক্যামেরা ও কন্ট্রোল রুম স্থাপন করবে ডিএমপি। নিরাপত্তা দেবে র‌্যাবের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড। ঈদগাহের চারপাশে সাদা পোশাকে গোয়েন্দারাও থাকবেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঘিরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছেন। রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণে সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের অজুখানা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মশা মারার ওষুধ ছিটানোসহ সব প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে ডিএসসিসি।

 

 

"