‘জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের বিদেশি প্রশিক্ষণে আগ্রহ বেশি’

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আমার সই করা ফাইলের ৬০ ভাগই বিদেশ ভ্রমণের। স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে কাজের উৎকর্ষ সাধন না হলেও ৭ থেকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণে আগ্রহ বেশি জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের। অপ্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের বাড়াবাড়ি রকমের আগ্রহ নিয়ে এভাবেই সমালোচনা করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, শুরু থেকেই বলে আসছি প্রতিটি প্রশিক্ষণ থেকে দেশে ফিরে আসার পরে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দিতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ তা করেননি। যখন আমি দেখি তিন-চার মাসের ট্রেনিং নিতে কর্মকর্তারা দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তখন মনে করি, কর্মকর্তা দক্ষ হয়ে ফিরে আসবেন।

একই বিষয়ে জ্বালানি সচিব আবু হেনা রহমাতুল মুনিম বলেন, দেশে প্রশিক্ষণের কথা বললে কেউ আসতে চান না। বিদেশি প্রশিক্ষণের প্রতি এত আগ্রহ কেন?

বিপিসির জিএম আবু হানিফ বলেন, একতরফাভাবে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের ট্রেনিং করতে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। বিপিসির কর্মকর্তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তাদের দক্ষতা বাড়ছে না।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট করেছে। এজন্য সরকার জমি দিয়েছে। কেন আপনারা সে ধরনের কাজ করতে পারছেন না? ভবিষ্যতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। এখনই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো কীভাবে পরিচালনা করতে হবে। বিপিসিরও তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট টু, সাগরে পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে, কিন্তু সেগুলো পরিচালনার জন্য আপনারা কি টিম ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন? যদি এখনো না করা হয়, তাহলে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।

জ্বালানি সচিব সেমিনারে বলেন, দক্ষতা ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা গ্যাস সংযোগ দেব না। একইসঙ্গে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আমরা জ্বালানি অপচয় রোধে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন স্রেডার সদস্য সিদ্দিক জোবায়ের, সিনিয়র সাংবাদিক মোল্লাহ আমজাদ।

 

"