জিয়ার মরণোত্তর বিচার চান এক সৈনিকের ছেলে

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সামরিক আদালতে মাত্র পাঁচ মিনিটের বিচারে বাবার মৃত্যুদন্ডের সময় মায়ের গর্ভে আট মাস বয়স ছিল তার। দুই মাস পর পৃথিবীর আলো দেখেছেন তিনি। বুঝতে শেখার পর থেকে অন্তত বাবার মৃত্যু দিনটি জানার চেষ্টা করেছেন তিনি, কোথায় তার কবর সেটাও। ৪২ বছর ধরে ঘুরেছেন সরকারি দফতরে। অবশেষে তিনি জেনেছেন বাবার মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ার দিনক্ষণ। এখন তার দাবি, অন্যায় বিচারে বাবাকে হত্যার জন্য জেনারেল জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার।

এই তিনি আতাউর, এখন প্রায় মধ্যবয়সী। বাবার কোনো স্মৃতি নেই তার। বাবা কেমন ছিলেন সেটাও জানা নেই, কারণ যখন তিনি আট মাসের গর্ভে, তখন তার মুক্তিযোদ্ধা বাবার মৃত্যুদন্ড হয়। বেড়ে উঠার সময় জানা ছিল কেন তার বাবাকে এভাবে চলে যেতে হয়েছে।

সাত বছর বয়সে প্রথম একটু ধারণা পান, মা বলেছিলেন, জিয়া তোর বাবাকে ফাঁসি দিয়েছে। আট বছর বয়স থেকে নানির কাছে বেড়ে উঠা। আতাউরের বাবার নাম ইব্রাহিম খান সেনাবাহিনী ব্যাজ নম্বর ৬৫৮৭২১২। শুধু এইটুকু তথ্য নিয়ে বাবার মৃত্যুদিন এবং কবর খোঁজার দীর্ঘ এবং প্রায় অসম্ভব একযাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি।

অবশেষে সমাপ্ত হলো আতাউরের বাবার মৃত্যু তারিখ খোঁজার যাত্রা। প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করে দিল গত ৯ জুলাই জাতীয় সংসদে হাসানুল হক ইনুর একটি বক্তব্য।

সেই বক্তব্যের সূত্রে সাংবাদিক-গবেষক জায়েদুল আহসানের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ১৯৭৭ সালের ২৯ অক্টোবর ৫ মিনিটের বিচারে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ফাঁসি হয় তার বাবার। ওই সময় জেনারেল জিয়ার বিরুদ্ধে কথিত ক্যুয়ের অভিযোগে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে সশস্ত্র বাহিনীর যে শত শত কর্মকর্তার ফাঁসি হয়েছিল, তার মধ্যে ১৭২ জনের ফাঁসি হয় কুমিল্লায়। আতাউরের প্রশ্ন ১১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম দেশের জন্য যুদ্ধ করে কীভাবে দেশদ্রোহী হন!

সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে ১৯৭৭ সালে সংঘটিত সব হত্যার বিচার চান আতাউর। চান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি। বাবাকে আর কখনো পাবেন না। তবে ৪২ বছরের জীবনে এবারই প্রথম মৃত্যু দিবসে কুমিল্লার টিক্কার চরে বাবার কবরের মাটি স্পর্শ করতে যাবেন আতাউর।

 

"