কাশ্মীর : সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কায় ভারত

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবনতির জেরে জলপথে সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা আঁটসাঁট করেছে ভারতীয় নৌ-সেনা। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে দেশের ৭ হাজার ৫১৪ কিমি দীর্ঘ উপকূলের ওপর। জানা গেছে, হামলার আশঙ্কায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূল বরাবর নজরদারি রাখার জন্য রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিস্তারিত অঞ্চলে নতুন গতিবিধি শুরু করেছে জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের ভাই কুখ্যাত পাক সন্ত্রাসবাদী রউফ আজগর। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, তাকে সম্প্রতি পাঞ্জাবের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে দেখা গেছে। উপকূল পাহারায় বিশেষ রাডার শৃঙ্খলা ও জয়েন্ট অপারেশনস সেন্টারের ব্যবস্থা বহাল রয়েছে বহু দিন আগে থেকেই। এদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে দিল্লির কাছে গুরুগ্রামের তথ্য ব্যবস্থাপক ও পর্যালোচনা কেন্দ্রের। ইতোমধ্যে সমঝোতা এক্সপ্রেসের পর ভারতের সঙ্গে সংযোগরক্ষাকারী শেষ ট্রেনটিও বাতিল করেছে পাকিস্তান। গতকাল শুক্রবার থর এক্সপ্রেস বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রসিদ। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করার প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। এর আগে পাকিস্তানের লাহোর থেকে দিল্লির মধ্যে যাতায়াতকারী সমঝোতা এক্সপ্রেস বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের খোকরাপার থেকে ভারতের মোনাবাও পর্যন্ত যাতায়াত করত থর এক্সপ্রেস। পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রসিদ জানিয়েছেন যে, তিনি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো ট্রেন যাতায়াত করবে না। পাকিস্তানের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। কাশ্মীর যে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, সেই সত্যি কথাটা এবার পাকিস্তান স্বীকার করে নিক বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, শুক্রবার কাশ্মীরে ঢুকতে পারেননি সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদের মতোই শ্রীনগর বিমানবন্দরেই আটক করা হয় তাকে। সঙ্গে আটক করা হয় সিপিআই নেতা ডি রাজাকেও। তরিগামি এখন অন্যান্য কাশ্মীরি নেতার মতোই গৃহবন্দি। সীতারাম ইয়েচুরি চিঠিতে সত্যপাল সিংহকে অনুরোধ করেন, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে কাশ্মীরে যেতে পারেন। ইয়েচুরির যুক্তি ছিল ইউসুফ তরিগামি অসুস্থ, তিনি তার সঙ্গে দেখা করতে চান। শুক্রবার সকালে শ্রীনগরে পৌঁছানোর পরই বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয় তাকে। তার সঙ্গে ছিলেন সিপিআই নেতা ডি রাজা। পরে ইয়েচুরি বলেছেন, আইনি কাগজপত্র দেখিয়ে তাকে এবং ডি রাজাকে শ্রীনগর শহরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এর আগে কংগ্রেসের রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদকেও একইভাবে আটক করা হয়েছিল শ্রীনগর বিমানবন্দরে।

অন্যদিকে, ৩৭০ ধারা রদ হওয়ার পরও কাশ্মীর প্রশ্নে আমেরিকার নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ভারত এবং পাকিস্তানকে সংযম রক্ষা করে চলার আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকা। এর ফলে পাকিস্তানের অস্বস্তি বাড়ল। আমেরিকার ঘোষিত কূটনৈতিক নীতি অনুযায়ী, কাশ্মীর ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সমস্যা। সেখানে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ করার পক্ষপাতী নয় হোয়াইট হাউস। কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ভারত-পাক আলোচনা চায় আমেরিকা, এই বার্তা দিয়ে অর্টাগাসকে বলেছেন, দুই পক্ষকেই শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত থাকতে বলা হয়েছে। আমেরিকা শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে। কাশ্মীর এবং অন্যান্য ইস্যুতে আমেরিকা সব সময়ই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে সমর্থন করে।

ওদিকে আবার সিমলা চুক্তির কথা মনে করিয়ে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান দুই পক্ষকেই সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এই প্রথম জাতিসংঘের পক্ষে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাশ্মীর প্রসঙ্গে দুই দেশকেই সংযত থাকার কথা বলেছেন জম্মু-কাশ্মীরের জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

"