মাওয়ায় স্বস্তি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ভোগান্তি

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

পদ্মায় তীব্র স্রোত, ঈদযাত্রায় যাত্রীবাহী পরিবহনের বাড়তি চাপ, গরুবাহী ট্রাক এবং ফেরির স্বল্পতার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ঘাটের উভয় পাশে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর গতকাল শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ফেরি চলাচল চালু হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টÑ

মানিকগঞ্জ : পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি পারাপারে লাগছে দীর্ঘ সময়। এছাড়া ঈদযাত্রায় যাত্রীবাহী অতিরিক্ত পরিবাহনের পাশাপাশি গরুবাহী ট্রাকের কারণেও চাপ বাড়ছে ফেরিঘাটে। এতে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হচ্ছে। পারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। গতকাল বৃহস্পতিাবার সকাল থেকে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও দুপুরের পর চাপ বাড়তে শুরু করে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায়।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মহিউদ্দীন রাসেল এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘাটে যাত্রীবাহী পরিবহনের তুলনায় পণ্যবাহী ও গরুবাহী ট্রাকের চাপ বেশি। পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় শতাধিক যাত্রীবাহী যানবাহন, অর্ধশতাধিক ব্যক্তিগত গাড়িসহ দেড়শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে এই নৌরুটে ১৯টি ফেরির মধ্যে ১৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : বৈরী আবহাওয়ায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট ১৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে চাপ বেড়েছে। এতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার যানবাহনের একাধিক সারি হয়। দক্ষিণ-পশ্চিঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের প্রধান নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় সারা বছরজুড়ে থাকে যানজট আর ভোগান্তি। আর ঈদযাত্রায় এর মাত্রা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

একাধিক ট্রাকচালক বলেন, ঈদে কমপক্ষে ২০ থেকে ২১টি ফেরি থাকলে হয়তো দৌলতদিয়া ঘাটে ভোগান্তি অনেকটা লাঘব হতো। ঢাকা থেকে ফরিদপুরগামী যাত্রী মোশারফ হোসেনের অভিযোগ, মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি নষ্ট হয়ে যায়।

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ম্যানেজার মো. আনোয়ার হোসেন মিলন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে মোট ৩৪টি লঞ্চ চলাচল করে। তবে চারটি লঞ্চ বিকল। বিআইডব্লিউটিএ’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবু আবদুল্লাহ রনি বলেন, দুই দিনের বৈরী আবহাওয়ায় মাওয়া ঘাট বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়ায় গরুবাহী ট্রাকের কারণে চাপ বেড়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) : আবহাওয়ার বৈরিভাব কিছুটা কেটে যাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ফেরিসহ লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল শুরু করেছে। এতে স্বস্তি দেখা দিয়েছে ঘরমুখো যাত্রীদের মধ্যে। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই এই রুটে বন্ধ ছিল লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল।

এদিকে ১৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১৮টি ফেরির মধ্যে চলছে মাত্র ১০টি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওহার কারণে লঞ্চ ও স্পিডবোটের পরিবর্তে ফেরিতে ঝুঁকছেন যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানায়, ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। তবে ঢেউ ও ¯্রােত থাকায় লঞ্চ চলাচলে একটু সময় বেশি লাগছে। কাঁঠালবাড়ী লঞ্চঘাট সূত্র জানায়, শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের ভিড় থাকায় কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে দ্রুত লঞ্চগুলো শিমুলিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হচ্ছে। তবে লঞ্চগুলো কাঁঠালবাড়ীতে আসতে ¯্রােত ও ঢেউয়ের কবলে পরে সময় বেশি ব্যয় হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন শিকদার বলেন, পদ্মায় এখনো প্রবল স্রোত ও বাতাস বইছে। তবে তা গতকালের (বুধবার) চেয়ে কম।

"