শোক ও শ্রদ্ধায় বঙ্গমাতাকে স্মরণ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন জাতীয়ভাবে মহীয়সী এই নারীর জন্মবার্ষিকী পালন করেছে। এ সময় শোক, শ্রদ্ধা ও বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বনানী কবরস্থানে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অপর্ণের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত তার সমাধিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বঙ্গমাতার আত্মার শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এ সময় শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পর্দার অন্তরালে থাকা সাহসী এক নারী। বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ ১২ বছরের জেলজীবনে তিনি একদিকে ঘর অন্যদিকে দল সামলেছেন। কিন্তু সামনে না এসে থেকেছেন সবসময় পর্দার অন্তরালে। আজ আমরা বাংলার ইতিহাসের বীর এই নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে এসেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের অসীম সাহসী এক নারী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের আজ জন্মদিন। আগস্টে তার জন্ম আগস্টেই তার রক্তাক্ত বিদায়। আনন্দ-বেদনা হাসি-কান্নার মিশেলে আজ আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমাধিস্থলে এসেছি।

এদিকে ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা শুধু বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী না, ছিলেন সহকর্মী ও বন্ধু। শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ এক যুগের জেলজীবনে একদিকে যেমন পরিবারকে সামলেছেন, ঠিক তেমনি সে সময়ে দলকে সামলানোর দায়িত্বও ছিল তার কাঁধে।

এছাড়াও দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ ফজিলাতুন নেছা জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়জিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষেদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ তার সময়কালের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, শেখ ফজিলাতুন নেছা ছিলেন আমাদের আশ্রয়স্থল। আনন্দ-হাসি-কান্নার সব সময় তিনি মাতৃছায়া দিয়ে আমাদের পাশে থাকতেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, যুবলীগ ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ ও তাঁতী লীগ বঙ্গমাতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গমাতার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া-মিলাদ মাহফিল এবং গরিব অসহায় এতিম-দস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা লীগ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কমলাপুর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাউল করীম চৌধুরী বাবুলের নেতৃত্বে এই আয়োজন করা হয়। এছাড়াও জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কোনো পদ-পদবির অধিকারী না হয়েও বঙ্গমাতা ছিলেন নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের এক অনন্য প্রতীক। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

 

"