খুলনা পলিটেকনিকে বৃত্তির টাকায় থাবা

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

আসাফুর রহমান কাজল, খুলনা

খুলনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বছরের পর বছর ধরে চলছে বৃত্তির টাকায় সিনিয়রের থাবা। ক্লাস ক্যাপ্টেইনদের মাধ্যমে টাকা উঠিয়ে নিচ্ছেন ছাত্রনেতারা। না দিলে ক্যাম্পাসে মারধর, বইপত্র কেড়ে নেওয়াসহ চলে নানা ধরনের নির্যাতন। নিরূপায় হয়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দিয়ে যাচ্ছে বৃত্তির টাকার ভাগ।

জানা গেছে, পলিটেকনিক ছাত্রদের বিভিন্ন ইস্যুতে বৃত্তি দেওয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনো বৃত্তি পেয়ে থাকেন। এ বৃত্তির টাকা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রদান করা হয়। বৃত্তির টাকা ইনস্টিটিউট থেকে চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউট থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনের মতো শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়ে থাকেন। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে গত তিন সেমিস্টারের টাকার চেক একবারে পেয়ে থাকেন শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, ইনস্টিটিউটের সাবেক ছাত্র নেতা আকাশ দাসের নেতৃত্বে একটি চক্র প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে ৩০০ টাকা করে। টাকা না দিলে পরীক্ষার দিন সকাল থেকে মেইন গেটে বসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। পরে টাকা দিয়ে তা ছাড়িয়ে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। অন্যথায় বিশেষ জামানত নিয়ে বা পরে টাকা দেওয়ার ডেট দিয়ে মেলে প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্র্রেশন কার্ড। সরেজমিন দেখা গেছে, পরীক্ষার সময় ইনস্টিটিউটের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে যেতেই বা হাতে একতলা বিল্ডিং। সেটি তালাবদ্ধ, কিন্তু তার পাশের সিঁড়িতে আকাশ দাস এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা বসে ধূমপান করছেন। আকাশ দাসের হাতে স্কেল। সামনে দাঁড়িয়ে ইউনির্ফম পরা কয়েকজন ছাত্র। তাদের ফাইল রয়েছে সিঁড়িতে বসা অন্যদের হাতে। এর পেছনে আরো কয়েকজন ছাত্রকে নির্যাতন করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থী এবং ক্যাপ্টেইনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রদের ফেসবুক পেজ ম্যাসেঞ্জারে টাকা দেওয়ার খবর সবাইকে জানানো হয়। এবার ২১ জুলাইয়ের মধ্যে টাকা দেওয়ার ছিল আলটিমেটাম। ইনস্টিটিউট থেকে কবে চেক দেওয়া হবে সবই জানেন আকাশ। টাকা না দিলে মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার সময় অনেক শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরে টাকা দিয়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষা দেন ওই শিক্ষার্থীরা। এই চক্রের সঙ্গে কিছু শিক্ষক জড়িত রয়েছেন বলে তাদের অভিযোগ। আর আকাশের প্রধান সহযোগী হিসেবে আশিকুর রহমান হৃদয়, সুজন এবং নবারের নামেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

মহানগর ছাত্রলীগের উপবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আকাশ দাস। খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাওয়ার টেকনোলজি বিভাগের চলমান শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন তিনি। তবে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বলছেন, ইনস্টিটিউট থেকে লেখাপড়া শেষ হয়ে গেছে তার।

টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে আকাশ দাস বলেন, ক্লাস পার্টির জন্য টাকা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার পর ক্লাসপার্টি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এর আগে এই ছাত্র নেতা এবং তার সহযোগীরা পিকনিকের নাম করে প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা নেন। পিকনিকে না যেতে চাওয়ায় কয়েকজন ছাত্রকে মারধরের ঘটনাও ঘটে।

খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ অনিমেশ পাল জানান, এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ কিছু বলেননি বা অভিযোগ করেননি। বর্তমানে আকাশ দাস ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নন। কোনো শিক্ষক জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আকাশের বড় ভাইকে আমি বলেছি, আকাশ যেন আর ক্যাম্পাসে না আসেন।

"