সুষমা স্বরাজ দেশ-বিদেশে মান্যতা পেতেন

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

সৌদি আরব থেকে মঙ্গোলিয়া এমনকি বৈরী দেশ পাকিস্তানে মান্যতা পেতেন সুষমা স্বরাজ। আধুনিক ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বিদেশমন্ত্রী) সেই সুষমা স্বরাজ আচমকাই চলে গেলেন। গত মঙ্গলবার রাতে দিল্লির অল ইন্ডিয়া মেডিকেল ইনস্টিটিউটে তার জীবনাবসান ঘটে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ হঠাৎ?? অসুস্থ বোধ করেন সুষমা স্বরাজ। তড়িঘড়ি তাকে এইমসে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চিকিৎ??সার জন্য মেডিকেল টিমও গঠন করা হয়। কিন্তু চিকিৎ??সকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে, কিছু ক্ষণের মধ্যেই সুষমা স্বরাজ না ফেরার দেশে। মৃত্যুর তিন ঘণ্টা আগেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাশ্মীরের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়ে টুইট করেছিলেন শারীরিক কারণে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া সুষমা স্বরাজ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে পৌঁছান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন, পীযুষ গোয়েল এবং নিতিন গডকরী। তারপর একে একে আসতে শুরু করেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা।

শুধুমাত্র বিজেপি কিংবা মোদি সরকারের নয়, দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা নেত্রীদের তালিকায় উঠে আসবে তার নাম। বিদেশমন্ত্রী হিসেবে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন সুষমা স্বরাজ। যে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে এখন দেশ উত্তাল, সেই কাশ্মীর নিয়েই পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিয়ে এসেছিলেন। তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। রাষ্ট্রসংঘে দাঁড়িয়ে ভারতের দিকে আঙুল তোলার চেষ্টা করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। এর কয়েক দিন পরই এক এক করে ইস্যু তুলে সেই রাষ্ট্রসংঘেই পাকিস্তানকে তুলাধোনা করেছিলেন তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় সুষমা বলেছিলেন, আপ স্বপ্না দেখ না ছোড় দিজিয়েÑ মানে নওয়াজ আপনি স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিন।

২০১৬-এর ২৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘে দাঁড়িয়ে সুষমা স্বরাজ বলে এসেছিলেন, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল, আছে, থাকবে। সুতরাং কাশ্মীর নিয়ে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন। পাকিস্তানের উদ্দেশে বার বার বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছেন সুষমা স্বরাজ। কিন্তু বন্ধুত্বের বদলে সন্ত্রাস পেয়েছে ভারত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছিলেন, আলোচনার আগে ভারত শর্ত দেয়। তার জবাবে সুষমা স্বরাজ বলেছিলেন, কিসের শর্ত? মোদি লাহোরে যাওয়ার আগে শর্ত দিয়েছিলেন, সরকারের শপথ গ্রহণে আমন্ত্রণের আগে শর্ত দিয়েছিলেন? রাষ্ট্রসংঘে নওয়াজ শরিফ বলেছিলেন, ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। সুষমা স্বরাজের জবাব ছিল, কাঁচের ঘরে বসে শত্রুকে ঢিল ছোঁড়া যায় না।

বক্তব্য ছিল, যদি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একজোট না হওয়া যায়, তাহলে আগামী প্রজন্ম ক্ষমা করবে না। এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে, সেটা কঠিন নয়, শুধুই ইচ্ছার অভাব। সন্ত্রাসবাদ মূল থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। সন্ত্রাসবাদ মানবতার সব থেকে বড় শত্রু, বলতেন সুষমা স্বরাজ। কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল পাস হওয়ার পর সুষমা স্বরাজ মঙ্গলবারই টুইট করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে। বলেছেন, সারা জীবন তিনি এই দিন দেখার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনির অসুখে ভুগছিলেন, কিডনি প্রতিস্থাপন করাও হয়। পরবর্তী সময়ে শারীরিক কারণেই ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি হননি। ইন্দিরা গান্ধীর পর তিনিই ছিলেন দেশের দ্বিতীয় মহিলা বিদেশমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভার তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। ছিলেন সংসদবিষয়ক মন্ত্রী, সামলেছেন স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। ১৫তম লোকসভায় বিরোধী দলনেত্রী ছিলেন সুষমা স্বরাজ। বিদেশ মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরে মানবিকতার ছোঁয়া এনেছিলেন বিজেপি নেত্রী। সাধারণ মানুষের আবেদনে ব্যক্তিগতভাবে সাড়া দিয়েছেন সুষমা। এমনকি পাকিস্তানের বাসিন্দাকেও চিকিৎসা ভিসা দিয়েছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এসব কারণে পাকিস্তানের জনগণের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।

এদিকে সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (সুষমা স্বরাজ) বাংলাদেশের ভালো বন্ধু ছিলেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একজন ভালো বন্ধুকে হারাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ তার অবদানকে স্মরণ করবে।

"