সাতক্ষীরায় সরকারি প্রকল্পের টাকা মেরে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মসৃজন প্রকল্পের কমপক্ষে ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উঠেছে। এ অভিযোগ তোলেন ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান, হাফেজ রবিউল ইসলাম ও মমতাজ বেগম। ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গতকাল সোমবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এই তিন ইউপি সদস্য।

অভিযোগে বুধহাটা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান জানান, গত ৫ মে কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় ৯টি ওয়ার্ডে ৩৪৩ জন শ্রমিকের ৪০ দিনের কাজ শুরু হয়। ৯নং ওয়ার্ডে ৫০ জন শ্রমিক কাজে নিয়োগ পান। ৫০ শ্রমিকের ১ হাজার ৯৫০ হাজিরা হওয়ার কথা থাকলেও হাজিরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০। অনুপস্থিতি ঘটেছে ৪৫০ হাজিরা। সেই অনুপাতে ৫০ জন শ্রমিকের ৪৫০ অনুপস্থিত হিসেবে ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত চলে যায়। বাকি টাকা শ্রমিকরা ৪ আগস্ট ব্যাংক থেকে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফেজ মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ৩নং ওয়ার্ডের ৩৫ জন শ্রমিক কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজে নিয়োগ পায়। ৩৫ জন শ্রমিকের ১ হাজার ৩৬৫ হাজিরা হওয়ার কথা থাকলেও হাজিরা হয়েছে ৭৫২। অনুপস্থিত হয়েছে ৬১৩ হাজিরা। ৩৫ জন শ্রমিকের ৩৯ দিনের ৬১৩ হাজিরার অনুপস্থিতির হিসেবে ১ লাখ ২২ হাজার ৬০০ টাকা ফেরত যায় সরকারি কোষাগারে।

তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, অন্যান্য সাতটি ওয়ার্ডের শ্রমিকরা এভাবে কাজের হাজিরায় অনুপস্থিত থাকলেও চেয়ারম্যান যোগসাজশের মাধ্যমে ২৯ জুলাই শ্রমিকদের উপস্থিতি ছাড়াই রুপালী ব্যাংক বুধহাটা শাখা থেকে অনুপস্থিতির কমপক্ষে ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেন শ্রমিক সর্দার অভিলাস ও শফি। এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডে একদিনও কোনো প্রকল্পের কাজ করা হয়নি। আমাকে কোনো প্রকল্পের দায়িত্বও দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ৩নং ওয়ার্ডের শ্রমিকদের দিয়ে ১নং ওয়ার্ডের কেওড়া পার্কে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের শ্রমিকদের কাজ করানো হয়েছে। ১ ও ২নং ওয়ার্ডের শ্রমিকদের টাকা উত্তোলন করলেও ৩নং ওয়ার্ডের শ্রমিকের টাকা উত্তোলন করাননি চেয়ারম্যান। টাকা না পেয়ে এসব শ্রমিক আগত ঈদের আনন্দ থেকেও বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্য মমতাজ বেগম এসব ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের না জানিয়ে ব্যাংক থেকে শ্রমিকদের টাকা তুলে আত্মসাতের ঘটনাসহ স্বেচ্ছাচারিতার তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ চাই।

শ্রমিক ছাড়াই ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে শ্রমিকদের সর্দার অভিলাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। তবে ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের শ্রমিক সর্দার শফি সরদার বলেন, আমার এই দুই ওয়ার্ডের শ্রমিকরা অনুপুস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেটা কতজন এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে অনুপস্থিতির টাকা উত্তোলন করেছেন কিনা সে বিষয়ে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ব ম মোসাদ্দেক বলেন, আমি টাকা আত্মসাৎ করিনি। এসব প্রকল্প আমি দেখি না। শ্রমিকরাই ব্যাংকে গিয়ে নিজেরাই টাকা উত্তোলন করেছেন।

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ৩ ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের দিয়ে নিজেদের বাড়িতে কাজ করিয়েছেন। সেজন্য ওই দুই ওয়ার্ডের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

"