এবার সবুজ হবে প্যারিস

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

প্যারিসকে আলোকনগর থেকে সবুজ নগরে রূপান্তর করতে ৭২ মিলিয়ন ইউরোর একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে ফ্রান্স। এর মধ্য দিয়ে আইফেল টাওয়ারের চারপাশের ৩০ হেক্টর এলাকায় বনায়ন করা হবে। প্যারিসের মেয়র আন হিদালগো বলেন, ‘নগর বন’ তৈরি করে প্যারিসকে সবুজ এবং এর রাস্তাগুলোকে শীতল করা হবে। শহরে উদ্যান এবং বাগান তৈরি করা হবে। ২০২০ সালের মধ্যে ৩০ হেক্টর এলাকায় বনায়ন করা হবে, লাগানো হবে ২০ হাজার গাছ। ৭২ মিলিয়ন ইউরোর এই প্রকল্পের মাধ্যমে আইফেল টাওয়ারের চারদিকে সব থেকে বড় বাগান তৈরি করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে অব্যবহৃত একটি রেল রাস্তায় নিউইয়র্কের হাই লেন পার্কের মতো করে গ্রিন বেল্ট তৈরি করা হবে বলে জানান হিদালগো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই শহর যাতে বসবাসের অনুপযোগী না হয়ে যায়, সে জন্য এটা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্যারিসভিত্তিক পরিবেশ এবং উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ভিনসেন্ট ভিগুই বিশ্বাস করেন, শহরে মাইক্রোক্লাইমেট তৈরি করে রাস্তার তাপমাত্রা কমানো সম্ভব।

বিশ্বে বনভূমির পরিমাণ দিন দিন কমছে, তবে এই প্রবণতা থেকে সরে আসার চেষ্টা করছে ইউরোপের দেশগুলো। ইউরোপে প্রতিদিন দেড় হাজার ফুটবল মাঠের সমান এলাকায় বনায়ন হচ্ছে এবং ফ্রান্স এতে অগ্রগামী ভূমিকায় রয়েছে। ফ্রান্সের তিন ভাগের এক ভাগ বনভূমি রয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সুইডেন, ফিনল্যান্ড এবং স্পেনের পরই ফ্রান্সে বেশি বনভূমি রয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে ফ্রান্সের সামগ্রিক বনভূমির পরিমাণ বেড়েছে ৭ শতাংশ। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন শুধু কয়েকটি দেশের একার পক্ষে রোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিশ্বের প্রতিটি দেশের উদ্যোগ এবং সহযোগিতা। সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হলো, প্রতি বছর মোট জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা এখনো কার্বনভিত্তিক উৎসের ওপর ৮৫ ভাগ নির্ভরশীল। ফ্রান্সের এনার্জি ফার্ম ‘টোটাল’-এর প্রধান জানিয়েছেন, তারা নতুন বন সংরক্ষণ ও পুনঃনবায়ন প্রকল্পে বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। কোম্পানিটির চিফ এক্সিকিউটিভ প্যাট্রিক পুইয়েন বলেন, ‘আমরা বন সংরক্ষণ প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের জন্য একটি ইউনিট স্থাপন করতে চাই, কারণ, কার্বন নির্মূলে এটাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।’ বিশ্বের ৫২০টি বড় শহরে পরিচালিত জুরিখ ইউনিভার্সিটির এক সমীক্ষা অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত নাতিশীতোষ্ণ এলাকার নগর অঞ্চলগুলো এক হাজার কিলোমিটার দক্ষিণে সরে যাবে। জুলাই মাসে প্রকাশিত তাদের এক সমীক্ষায় বলা হয়, বন সংরক্ষণে ব্যাপক প্রচারণা চালালে তা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে পারে। খবর : দ্য ডেইলি মেইল।

 

"