বাকৃবিতে এবার এডিস নিধনে মশকভুক মাছ

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

বাকৃবি সংবাদদাতা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিধনে এবার নতুন পদ্ধতি চালু করেছে। পানিতে ‘মশকভুক মাছ’ ছাড়ার মাধ্যমে এডিস নিধন সম্ভব বলে অভিমত দিয়েছেন তারা।

দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের পাশের ড্রেনে (প্রায় সাত-আট হাজার) মসকিউটো ফিশ অবমুক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. লুৎফুল হাসান। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মে. জসিমউদ্দিন খান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল হক, প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদসহ মৎস্য বিজ্ঞান ও অন্য অনুষদের শিক্ষকরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন ড্রেনে এ মাছ ছাড়া হবে বলে জানানো হয়।

ভিসি অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, দেশের ডেঙ্গুর মহামারিতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে। তেমনি একটি হলো মশা নিধনের বায়োলজিক্যাল পদ্ধতি অর্থাৎ মাছ দিয়ে মশার লার্ভাকে ভক্ষণ করানো। তাই দেশের সব বদ্ধ পানিতে এ মাছ ছাড়া হলে এই দুর্যোগ অনেকটাই মোকাবিলা সম্ভব।

গবেষক দলের প্রধান ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ জানান, ২০১৭ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চট্টগ্রামের কিছু ড্রেনে মশার ডিম ভক্ষণে কয়েকটি মাছের দক্ষতা নিয়ে একটি গবেষণা করেছিলাম। গবেষণায় দেখা গেছে, মশার লার্ভা (বাচ্চা মশা) ভক্ষণে দেশীয় খলিশা, দারকিনা, জেব্রা ফিশ মসকিউটো ফিশের চেয়ে বেশি উপযোগী হলেও এরা নর্দমার নোংরা পানিতে বেশিদিন বাঁচতে পারে না। তাই নর্দমার পানিতে মশার লার্ভা নিধনে মসকিউটো ফিশ সবচেয়ে বেশি উপযোগী। মসকিউটো ফিশ প্রায় ১০ বছর আগে আমেরিকা থেকে অ্যাকুরিয়াম ফিশ হিসেবে দেশে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে দেশের মুক্ত জলাশয় এবং ড্রেনে এটি ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি জানান, যেহেতু এডিস মশা বদ্ধ পানিতে ডিম ছাড়ে, তাই কোনোভাবে এই ডিমকে বিনষ্ট করতে পারলেই এডিস মশাকে নিধন করা সম্ভব হবে। আর পানিতে ‘মশকভুক মাছ’র মাধ্যমে মশার ডিম নিধন সম্ভব বলে জানান তিনি।

 

 

"