কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের পাশে আমেরিকা, সতর্ক জাতিসংঘ

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

৩৭০ ধারা বিলোপ একেবারেই ভারতের নিজস্ব বিষয়, জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর। ক’দিন আগেই, কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এখন মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকই বলছে, কাশ্মীর নিয়ে ভারত যা করেছে তা একেবারেই ভারতের নিজস্ব বিষয়। গোটা বিষয়টির ওপরে নজর রাখছে আমেরিকা। মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে মুখপাত্র মরগান ওরতেগাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে যা হচ্ছে তা নজরে রাখছে আমেরিকা। জম্মু ও কাশ্মীরকে ভাগ করা এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার বিলোপ করার বিষয়টি নজরে রয়েছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র আরো বলেছেন, কাশ্মীরে যেভাবে বিভিন্ন লোকজনকে আটক করা হচ্ছে তা গুরুতর বিষয়। এই ইস্যুতে সব পক্ষেরই শান্ত থাকা উচিত। অন্যদিকে কেন্দ্র ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পর ইসামাবাদে ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এদিকে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, ৩৭০ ধারাই হলো সন্ত্রাসবাদের প্রধান কারণ। কাশ্মীরের ভারতভুক্তির সঙ্গে ৩৭০ ধারার কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর জম্মু-কাশ্মীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যতবার জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, ততবারই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং আকসাই চীনকে নিয়ে বলা হয়েছে, লোকসভায় এভাবেই সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, এই ভূখন্ডের জন্য জীবন দিতে পারেন। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্র আগ্রাসনী ভূমিকা নিচ্ছে বলে লোকসভায় অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। জবাব দিতে গিয়ে উত্তেজিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরকে সম্পূর্ণভাবে ভারতভুক্তি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেছেন, এই প্রস্তাব এবং বিল ভারতের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী রাষ্ট্রসংঘের প্রসঙ্গ তুললে সরকার পক্ষ চেপে ধরে কংগ্রেসের অবস্থান জানতে। কারণ ভারত বরাবরই কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে বিরোধিতা করে এসেছে। সরকার পক্ষের সংসদ সদস্য এ বিষয়ে সরব হওয়ায়, অধীর চৌধুরী বলেছেন, সরকার স্পষ্ট করুক কাশ্মীর ইস্যু অভ্যন্তরীণ না দ্বিপাক্ষিক বিষয়। সিমলা চুক্তি, লাহোর ডিক্লেরেশনের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাব চান লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা। জবাবে অমিত শাহ বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সাংবিধানিক পথেই এর সমস্যা সমাধান করতে চায় সরকার।

অন্যদিকে ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলোর ৩৭১ ধারাও কি এবার খারিজ করা হবে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জানতে চেয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপ বিতর্কে এবার ৩৭১ ধারার কথা টেনে এনেছে কংগ্রেস। লোকসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে কংগ্রেস নেতা মণীষ তিওয়ারি জানতে চেয়েছেন, এবার কি উত্তরপূর্ব ভারতের জন্য তৈরি ৩৭১ ধারাও বিলোপ করা হবে? মঙ্গলবার ৩৭০ ধারা বিলোপের কথা লোকসভায় তুলতেই তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয়েছে লোকসভায়। এভাবে লোকসভাকে এড়িয়ে ৩৭১ ধারাও তুলে দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করেন কংগ্রেস নেতা মণীষ তিওয়ারি। মণীষ তিওয়ার প্রশ্ন তুলেছেন, ৩৭০ ধারার পাশাপাশি সংবিধানের ৩৭১ ধারাও রয়েছে। সেখানে ৩৭১ ধারার এ-আই পর্যন্ত রয়েছে। ওই ধারায় নাগাল্যান্ড, অসম, মণিপুর, অন্ধ্রপ্রদেশ ও সিকিমকে কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এখন ৩৭০ ধারা বিলোপ করা হয়েছে; তাহলে কি ৩৭১ ধারাও বিলোপ করা হবে? ওইসব রাজ্যেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কী বার্তা দিতে চলেছেন।

ওদিকে আবার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল বা রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত এলাকা ঘোষণা করাটা যেহেতু একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়, তাই তড়িঘড়ি এ নিয়ে মুখ খোলেনি পাকিস্তান বাদে অন্য কোনো দেশ। ব্রিটেন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়ার মতো কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ফের সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, কাশ্মীর উপত্যকা ফের অশান্ত হয়ে উঠতে পারে, কিংবা জঙ্গি হামলা হতে পারে। আমেরিকা, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও ব্রিটেন রাষ্ট্রপুঞ্জে নিরাপত্তা পরিষদের এই পাঁচ স্থায়ী সদস্য ও অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করেছে ভারত। স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি সংসদের বিবেচনাধীন এবং একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনো আন্তর্জাতিক আইন ভাঙা হয়নি। সুশাসন, সামাজিক ন্যায় এবং জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের আর্থিক উন্নয়নই এর মূল লক্ষ্য।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আইনি পথে একে চ্যালেঞ্জ করারও হুশিয়ারি দিয়েছে ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর নিয়ে যুযুধান দুই পড়শি দেশকেই সংযত হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেস। তার অফিসের মুখপাত্র এ নিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দুই পক্ষেরই সেনা যেভাবে সক্রিয় হয়েছে, সেটা রাষ্ট্রপুঞ্জের মিলিটারি অবজার্ভার গ্রুপের নজরে এসেছে। পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই খারাপ দিকে না যায়, সেটা নিশ্চিত করতেই এখন ভারত-পাকিস্তানকে সংযত আচরণ করতে হবে।

"