বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার জনপ্রিয় হচ্ছে

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুতের এনালগ মিটারের থেকে প্রি-পেইড মিটার অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সহজ বিলিং ব্যবস্থার কারণে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিদ্যুতের অপচয় রোডে এ ব্যবস্থা এরই মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় বিল ব্যবস্থায় গ্রাহক পর্যায়ে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজ করছে একটি পক্ষ। অথচ এ ব্যবস্থার প্রতি ২০১১ সাল থেকে গ্রাহকের আস্থা বাড়ছে। ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ স্লোগানটি সামনে রেখে ২০২১ সালের মধ্যে সরকার সমগ্র বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের সদ্ব্যবহার ও অপচয় রোধ তথা স্বয়ংক্রিয় বিলিং সুবিধা সৃষ্টি করার জন্য ২০১১ সালে সরকার প্রি-পেমেন্ট মিটার প্রবর্তন করে। বর্তমানে প্রি-পেমেন্ট মিটারগুলো আরো আধুনিকায়ন করে ২০২৫ সালের মধ্যে ২.০ কোটি প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

বোর্ডের সূত্র জানা গেছে, জুন ২০১৯ পর্যন্ত ঢাকার আশপাশে ৪.০ লাখ মিটার স্থাপিত হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে আরো ৭.৫০ লাখ মিটার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের ভিশনের অংশ হিসেবে আরো ৩১.০ লাখ স্মার্ট (অনলাইন) প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে স্থাপিত প্রি-পেমেন্ট মিটার গ্রাহকগণকে রিচার্জ পরিমাণের ওপর সরকার কর্তৃক ০১% ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, প্রকৃত ব্যবহারের ওপর প্রি-পেমেন্ট মিটার বিল করে বিধায় কোনো আনুমানিক বা ভৌতিক বিল হওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়াও প্রি-পেমেন্ট মিটারে ভোল্টেজ লিমিট সেট করে দেওয়া যায়, যার মাধ্যমে গ্রাহকের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলো ওভার ভোল্টেজ কিংবা আন্ডার ভোল্টেজ হতে রক্ষা করা সম্ভব।

এ পর্যন্ত স্থাপিত প্রি-পেমেন্ট মিটারের ফলে গ্রাহকরা দূরবর্তী অফিস, ব্যাংকে না যেয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভেন্ডিং স্টেশন, ব্যাংক পস, মোবাইল রিচার্জ সেন্টার হতে কিংবা গ্রামীণফোন/রবির এ্যাপসের মাধ্যমে নিজে নিজের ঘরে বসেই প্রি-পেমেন্ট মিটারের রিচার্জ টোকেন ক্রয় করতে পারছেন, গ্রাহকদের বিল পরিশোধে অর্থ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই সেবাটি আরো আধুনিকায়ন করে মিটারে টোকেন এন্ট্রি না করে অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি মিটার পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হবে।

বর্তমানে স্থাপিত প্রি-পেমেন্ট মিটার হতে গ্রাহক নিজেই তার চলমান লোড, ব্যবহৃত ইউনিট, অবশিষ্ট টাকা, বিগত ৬ মাসের মাসভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ও ব্যবহৃত টাকা ইত্যাদি দেখতে পারেন। তাছাড়াও টাকা শেষ হয়ে গেলে ইমার্জেন্সি ক্রেডিট (ধারকৃত) হিসাবে ১০০ টাকা ব্যবহার করতে পারেন। ইমার্জেন্সি ক্রেডিট (ধারকৃত) শেষ হলে বিকাল ৪টা হতে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত ফ্রেন্ডলি আওয়ার হিসাবে মিটার সচল থাকবে এবং সরকারি ছুটির দিনে মিটার সচল থাকে। তবে এসব সুবিধাদি প্রতিবার রিচার্জের জন্য একবার গ্রাহক ভোগ করতে পারেন।

প্রি-পেমেন্ট মিটার গ্রাহকের জন্য যতটুকু লোড প্রোগ্রাম করে দেয় (অনুমোদিত লোড) ততটুকু সে ব্যবহার করতে পারেন। সাশ্রয়কৃত লোড অবিদ্যুতায়িত এলাকায় সরবরাহের ফলে সরকারের ভিশন ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে। অপরদিকে, পিক-আওয়ারে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত হলে অফ পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পায় ফলে উৎপাদন হতে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত সিস্টেমের সক্ষমতা বাড়ে এবং খরচ কমে, এটি স্মার্ট গ্রিডের একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান।

বর্তমানে একটি মহল প্রি-পেমেন্ট মিটার সম্পর্কে সব কিছু না জেনে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন কাজে বাধা প্রদান করে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। প্রি-পেমেন্ট মিটার ব্যবহারে গ্রাহক যেমন সব কিছু নিজে দেখতে পারে এবং বুঝতে পারে তেমনি গ্রাহক তার বাজেটের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করত ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ এ কার্যক্রমে অংশীদার হতে পারছেন।

 

"