টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যায় স্বামীসহ দুজনের ফাঁসি

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যায় স্বামী পুলিশ কনস্টেবল ও তার সহযোগীকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেকে ১ লাখ টাকা দুজনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম খালেদা ইয়াসমিন (জেলা ও দায়রা জজ) আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডিত ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে কর্মরত কালিহাতী উপজেলার হিন্নাপাড়া গ্রামের মো. আবু হানিফের ছেলে মো. আ. আলীম সুমন (৩২) ও তার সহযোগী একই উপজেলা ও গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে শামীম আল মামুন (২৯)। রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনা করেন এপিপি শামস উদ্দিন। তাকে সহায়তা করেন বিশেষ পিপি নাসিমুল আক্তার নাসিম।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৬ মে কালিহাতী উপজেলার হিন্নাইপাড়া এলাকার আবু হানিয়ের ছেলে আ. আলীম সুমন সঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ফলিয়ারঘোনা এলাকার সুলতান আহম্মদের মেয়ে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য সুমিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন সুমন। পরে সুমি তার বাবার বাড়ি চলে যান। এর কিছুদিন পর সুমন মুঠোফোনযোগে সুমিকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এরপর ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল সুমি সুমনের সঙ্গে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। সেই থেকে সুমির মুঠোফোন বন্ধ থাকে। সুমির মা সুমনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে সুমন যৌতুকের টাকা দাবি করেন। অন্যথায় বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় সুমির মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি মামলা করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল থানা পুলিশ সুমনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সুমন জানান, ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার বন্ধ শামীম আল মামুনের সহযোগিতায় তুরাগ থানার বেড়িবাঁধের পাশে শ^াসরোধ করে হত্যার পর লাশ পাশের ডোবায় ফেলে রাখে। পরে পুলিশ তার স্বীকারোক্তি মতে ঘটনাস্থল থেকে সুমির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৯ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হত্যা মামলা করে।

"