মুক্তিযোদ্ধাকে দাদা সাজিয়ে সরকারি চাকরি

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নওগাঁ প্রতিনিধি

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের নওগাঁর সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী। সরকারি নথি অনুযায়ী, তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাদা সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ওয়াজেদ আলীর জমা দেওয়া নথিতে পিতার মো. শফিকুল ইসলাম এবং তার দাদার নাম বীর মুক্তিয়োদ্ধা আব্দুল আজিজ উদ্দীন, নওগাঁ জেলার পার্শ্বপর্তী বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের জগদিসপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে নিয়োগের সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে তার দাদার নামের সঙ্গে বীর মুক্তিয়োদ্ধা আব্দুল আজিজের পরিচয় দিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বীর মুক্তিয়োদ্ধা আব্দুল আজিজকে দাদা পরিচয় দিলেও ওয়াজেদ আলীর বাবার ভোটার আইডি কার্ড সূত্রে জানা যায়, তার পিতা মো. শফিকুল ইসলাম এবং তার দাদার নাম সায়েজ উদ্দীন পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বীর মুক্তিয়োদ্ধা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমার বয়স ৭৫-৮০ বছর হয়েছে। আমার তিনটি মেয়ে রয়েছে, আমার কোনো ছেলেসন্তান নেই, আমি গরিব অসহায় একজন মানুষ সরকার থেকে প্রদানকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যে ভাতা দেওয়া হয়, সেটা দিয়ে আমার তিন মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি। আমার তিন মেয়ের সন্তান রয়েছে, কিন্তু তাদের কারো চাকরি করার মতো বয়স হয়নি। তারা এখনাে পড়াশোনা করছে।’ মুক্তিয়োদ্ধা আব্দুল আজিজ আরো বলেন, ‘আমার ভুয়া নাতি পরিচয় দিয়ে যদি কেউ চাকরি করে সরকার তার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন কীভাবে আমার নাম ব্যবহার করল আমি কিছু জানি না বাবা।’

বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (কিশোর) বলেন, ‘আমি ওয়াজেদ আলীকে চিনি এবং তার চাকরিসহ তার বিষয়ে সব কিছু জানি, কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে বা মতামত দিতে রাজি নন বলে ফোন কেটে দেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নওগাঁর উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে নওগাঁয় যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। তবে নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে তার সার্ভিস বুকে যে তথ্য আছে, এর বাহিরে আমরা কিছু বলতে পারি না। তবে অভিযোগের বিষয়টি সত্য হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আপনি কেন ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। আপনি যা পারেন করেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।’

দায়িত্বপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগ বলেন, ‘বদলগাছী উপজেলার জগদিসপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া নাতি পরিচয় দিয়ে চাকরি করলেও বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তাকে চাকরি দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।’ তিনি আরো জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে তদন্তের জন্য প্রতিবেদন চাইলে অবশ্যই নতুন করে প্রতিবেদন করে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তাছাড়া বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

 

 

"