ঢাবি প্রশাসনিক ভবনে তালা

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে একাডেমিক ভবনে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা জানান, অধিভুক্তি বাতিলের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তালা খোলা হবে না। এ নিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

গতকাল রোববার ভোরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, কলা ভবন, বাণিজ্য শিক্ষা অনুষদ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে তালা ঝুলিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে সকালে ক্লাস করতে এসে ফিরে গেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর আগে ৮টায় কর্মচারীরা তালা খুলতে এসেও আন্দোলনকারীদের বাধার সম্মুখীন হয়। তবে তালা খোলা সম্ভব হয়নি। এ কারণে গতকাল বোরবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। সকাল ৮টায় কলা ভবনের সামনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস করতে এলেও ৩ জন ছাত্রী ও ৩ জন ছাত্র মূল ভবনে তালা লাগিয়ে হাতে ফেস্টুন নিয়ে বসে আছে। এ সময় ক্লাস করতে আসা শিক্ষকরা ৭ কলেজ সমস্যার সমাধান আস্তে আস্তে হবে আশ্বাস দিয়ে তালা খুলে দিতে আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা আন্দোলন থেকে সরে আসেননি। সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ তার কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের বাধায় ঢুকতে পারেননি। এ সময় অধ্যাপক সামাদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সাত কলেজের অধিভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়, এটা একটা জাতীয় সিদ্ধান্ত। কোনো কিছু করতে হলে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সে পর্যন্ত তোমরা আন্দোলন স্থগিত কর। তবে শিক্ষার্থীরা তাতে কর্ণপাত করেননি।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের ঢাবির শিক্ষার্থী পরিচয় দেয়, ফলে তাদের পরিচয় সংকটে পড়তে হচ্ছে। এ আন্দোলনে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের বেশি অংশ নিতে দেখা গেছে।

তাদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই অধিভুক্ত সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করতে হবে। দুই মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার ফলাফল দিতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন করতে হবে, ক্যাম্পাসে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং রিকশাভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অন্যের ক্ষতি করে কোনো আন্দোলন শুভ হয় না। আমরা তাদের সঙ্গে বসতে চেয়েছি। কিন্তু তারা কোনো কথাই শুনছে না। আলোচনা ছাড়া সমাধান হবে কী করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিবেকবান। আমরা আশা করছি, তারা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করবে।

 

"