ভারতে ভূত সেজে ধর্ষণের চেষ্টা...

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ‘ভূতবেশী’ এক যুবক। মাস দেড়েক ধরে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করার পরে ওই যুবক রাতের অন্ধকারে মুখে, গায়ে কালি আর পাউডার মেখে ওই নারীর বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ওই নারীর স্বামী।

প্রথমে যুবকটি পালিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে পরে গ্রেফতার করে ধর্ষণের প্রচেষ্টার অভিযোগ এনেছে। আদালত তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় এ ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসির।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই যুবক তার স্ত্রীকে মাস দেড়েক ধরেই উত্ত্যক্ত করছিল। কিন্তু তাকে দেখা যাচ্ছিল না। ওই নারীর স্বামী যখন কাজে ঘরের বাইরে থাকেন, সেই সময়েই কখনো বাড়ির ছাদে ঢিল মারছিল কেউÑ কখনো জানালা দিয়ে চুল টেনে বা ঘুমানোর সময়ে পায়ে কাঠি দিয়ে সুড়সুড়ি দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল উত্ত্যক্তকারী। গত রোববার রাতে ওই ব্যক্তি ঢুকে পড়ে একেবারে বাড়ির ভেতরেই এবং এরপর ওই নারীর গায়ে হাত দেয়। ওই সময় সাহস করে আক্রমণকারীকে ধরে ফেলেন ওই নারী আর একই সঙ্গে তিনি ঘুমন্ত স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে তোলেন। তিনি জানান, মুখে-গায়ে কালিঝুলি আর পাউডার মেখে আসা ওই যুবককে মারধর করতেই আসল চেহারা বেরিয়ে পড়ে তার।

ওই নারীর স্বামী বলেন, ওই লোকটার গায়ে কালি আর পাউডার মাখা ছিল। মারধরের ফলে সেগুলো কিছুটা মুছে যেতেই দেখি পাশের বাড়ির ছেলে! বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এতদিন ধরে সে আমার স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করছিল। ওই যুবককে মারধরের সময়েই তার পরিবারের লোকেরাও সেখানে চলে আসে। আর সুযোগ বুঝে চম্পট দেয় ভূতবেশী ওই উত্ত্যক্তকারী।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নির্যাতিতা নারীর স্বামী বলেন, মাস দেড়েক আগে তার বাবার মৃত্যুর পর থেকেই বাড়িতে ভুতুড়ে কান্ড শুরু হয়। কখনো বাড়ির চালে ঢিল পড়তে থাকে, কখনো জানালার পাশে কেউ তার ঘুমন্ত স্ত্রীর পায়ে কাঠি দিয়ে সুড়সুড়ি দেয় বা চুল টেনে দেয়। তাই পরিবারটির দৃঢ় ধারণা জন্মেছিল যে ভূতেই এসব কাজ করছে।

কাটোয়া থানার এক কর্মকর্তা বলেন, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রচেষ্টা, আর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের ধারায় মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক মারধরের মধ্যেই হাত ছাড়িয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক। কিন্তু পরে সে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। অভিযুক্তের পরিবার তাকে বিষয়টা মিটিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান নির্যাতিতার স্বামী। কিন্তু তিনি রাজি হননি।

 

"