এক বাড়িতে ১১ বাকপ্রতিবন্ধী

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

রাকিবুল রাকিব, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক বাড়িতেই ১১ জন বাকপ্রতিবন্ধীর সন্ধান মিলেছে। ওই বাড়ির অবস্থান উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের পলটিপাড়া গ্রামে। বাকপ্রতিবন্ধী ওই ব্যক্তিদের কারণে গ্রামের ওই বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে বোবাদের বাড়ি নামে পরিচিত। তবে বাড়ির ১১ জন বাকপ্রতিবন্ধীদের মধ্যে সরকারি ভাতা পান মাত্র একজন।

সরেজমিন পলটিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বোবাদের ওই বাড়িটিতে নারী, পুরুষ ও শিশু মিলে ৩০ জনের মতো বসবাস। প্রতিবেশী গৃহবধূ জেসমিন আক্তার দোভাষীর দায়িত্ব পালন করে বাকপ্রতিবন্ধীদের সঙ্গে ইশারা-ইঙ্গিতে কথা বলে তাদের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরেন এই প্রতিবেদকের কাছে। জেসমিন আক্তার বলেন, এই বাড়ির তিন বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে হলেন জাহের বানু, চান বানু ও তাহের বানু। জাহের বানু নিঃসন্তান। চান বানুর দুই ছেলে আবদুল মালেক ও আবদুল খালেক বাকপ্রতিবন্ধী। তাহের বানুর এক সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিক। বাকপ্রতিবন্ধী এই নারীদের বিয়ে হলেও তারা বেশিদিন স্বামীর সংসার করতে পারেনি। শারীরিক সমস্যার কারণে স্বামীরা তাদের বাবার বাড়িতে রেখে গেছেন। ফলে তারা ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এদিকে চান বানুর ছেলে আবদুল মালেকের তিন সন্তানের মধ্যে আবার দুজনই বাকপ্রতিবন্ধী। আরেক ছেলে আবদুল খালেকের তিন সন্তানের মধ্যে একজন বাকপ্রতিবন্ধী।

প্রতিবেশীরা জানান, পরের জমিতে কাজ করে তাদের সংসার চলে। কিন্তু বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তারা কানেও শোনে না। কেউ কাজে নিলে তাদের ডাকলে সাড়া পান না। শরীরে ঢিল ছুড়ে কথা বলতে হয়। তাই তাদের কেউ কাজেও নিতে চায় না।

অপরদিকে চানবানুর ভাই মো. মেরাজ মিয়া ও আবদুস সাত্তার। তারা দুজনও বাকপ্রতিবন্ধী। মেরাজ মিয়া বিয়ে করলেও বাকপ্রতিবন্ধকতার কারণে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। আবদুস সাত্তারের এক সন্তানও বাকপ্রতিবন্ধী। এই বাড়ির ১১ জন বাকপ্রতিবন্ধীর মধ্যে কেবল আবদুস সাত্তার সরকারের প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে আবদুস সাত্তারের এক বছরের ভাতা সহনাটি ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাতা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা।

ক্ষোভের কারণ জানতে চাইলে বাকপ্রতিবন্ধীদের ইশারা ভাষা বুঝিয়ে দিয়ে জেসমিন আক্তার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে একাধিকবার বাকপ্রতিবন্ধীদের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলে নিলেও সরকারি কোনো ভাতা পায়নি তারা। তাই তারা ক্ষুব্ধ।

বাড়ির অন্য বাসিন্দারা বলেন, আমাদের বাড়িতে নলকূপ নেই। পানীয় জলের তীব্র সংকট। বাড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নেই। বসতঘর ভেঙে পড়ছে। কিন্তু সরকারের লোকজন কেন খোঁজ নিতে আসেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা করিম বলেন, বাকপ্রতিবন্ধীদের বিষয়টি জানতে পেরে আমি ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রত্যেক পরিবারে একটি করে ভিসিটিং কার্ড করে দিতে বলেছি। আর ভাতার জন্য সরকার নির্ধারিত বয়স না হলে ভাতা দেওয়া সম্ভব হয় না। বাকপ্রতিবন্ধীদের মধ্যে যাদের বয়স হয়েছে তারা যেন ভাতা পায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

"