বৃষ্টিতে রাজধানীর সড়ক উপচে নর্দমার পানি

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

কখনো রিমঝিম, কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি আবার অবিরাম বর্ষণে গতকাল শনিবার ঢাকার অধিকাংশ সড়কে ছিল হাঁটুপানি। বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে সব জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় নাগরিক জীবনে নেমে আসে চরম ভোগান্তি। সরকারি অফিস বন্ধের দিন থাকার পরও জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যানচালক ও পথচারীরা। এছাড়া, নর্দমার ময়লা আর বৃষ্টির পানিতে একাকার অধিকাংশ এলাকার রাস্তা। এতে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

যথাযথ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে সরে যেতে পারছে না বৃষ্টির পানি। রাজধানীর রাজারবাগ, পল্টন, নয়াপল্টন, মতিঝিল, বঙ্গভবন এলাকা, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজতুরী বাজার, কারওয়ান বাজার, মনিপুরী পাড়া, কাজীপাড়া, বেগম রোকেয়া সরণিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় রাস্তাঘাটসহ গোটা শহরের নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে পানিবদ্ধতা। রাস্তায় তীব্র যানজট ও গণপরিবহনের সঙ্কটের কারণে বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

অনেককে কাকভেজা হয়ে রাস্তার মোড়ে তীব্র বিরক্তি নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

আবার এই দিকে দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। খানাখন্দক ও খোঁড়াখুঁড়ির গর্তে বৃষ্টির পানি জমে একাকার হয়ে গেছে। কোথায় সমতল আবার কোথায় খানাখন্দক বোঝার উপায় নেই। এসব সড়কে প্রতিদিন অহরহ ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। গতকালের বৃষ্টিতে এ সড়কগুলো দিয়ে চলাচলকারীদের পড়তে হয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরের পয়ঃনিষ্কাশনের প্রধান দায়িত্ব ওয়াসার। কারণ ঢাকা শহর থেকে বড় অঙ্কে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম স্যুয়ারেজের দায়িত্ব তাদের কাছে। আমাদের কাছে শুধু কিছু ছোটখাটো ড্রেনের দায়িত্ব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকালের বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে মিরপুর, ফার্মগেট ও আশপাশের বাসিন্দারা। কারণ এ এলাকায় মেট্রোরেলের কাজ করায় সড়কে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে মিশে বিচ্ছিরি অবস্থা বিরাজ করছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকায় এ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অনেকেই। মিরপুরের হাসান রফিক বলেন, বৃষ্টি হলেই এ দুর্ভোগে পড়তে হয়। এটা নিয়মিত চিত্র। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কি এটা চোখে পড়ে না? ঠিকমতো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে এ সমস্যা হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া টানা বর্ষণে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ, বনানী, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, রূপনগর, উত্তরাসহ অনেক এলাকার রাস্তাঘাট। এর সঙ্গে তীব্র যানজট যুক্ত হওয়ায় পথচলতি মানুষ পড়ে চরম দুর্ভোগে। শান্তিনগর, মালিবাগ মোড়, শান্তিবাগ, যাত্রাবাড়ী, মীরহাজিরবাগ, গুলিস্তান এলাকা, পুরান ঢাকা, মিরপুর ও উত্তরার বিভিন্ন সড়কে যানজটে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। মহাখালী-ফার্মগেট সড়কে সারা দিনই থেমে থেমে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সায়েদাবাদ টার্মিনাল-সংলগ্ন প্রতিটি সড়কেও ছিল যানজটের ধকল।

বারিধারা, নতুনবাজার এলাকা থেকে বাড্ডা-রামপুরা হয়ে মালিবাগ রেলগেট পর্যন্ত গাড়ি চলাচল করেছে গরুর গাড়ির স্টাইলে। কয়েক গজ পরপরই গাড়ি থামিয়ে রাস্তা সচল হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। এ সড়কে চলাচলকারী লোকজন দীর্ঘ সময় ধরে গাড়িতে আটকে থেকে রীতিমতো বিরক্ত হয়ে অনেকেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্য পথে রওনা দিতে বাধ্য হয়।

নগরবাসীরা মনে করেন অপরিকল্পিত নগরায়ণসহ খাল ভরাটের কারণে এ সমস্যা দিন দিন আরো প্রকট হচ্ছে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত করাসহ এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সামনের বর্ষায় নগরীতে বসবাস করা দুষ্কর হয়ে পড়বে মনে করছেন তারা।

তাদের মতে, বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, তার ওপর তীব্র যানজট। এতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

জলাবদ্ধতা বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার সমন্বয়হীনতার কারণেই রাজধানীর সড়কগুলোর জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণসহ খাল ভরাটের কারণে এ সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। দুঃখজনক হলো, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে নগরবাসীর দুর্গতি ক্রমাগত বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টির পানি মাটিতে চুষে নেয়ার জায়গা নেই। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে রাজউক সিটি করপোরেশনকে দায়ী করে আর সিটি করপোরেশন দায়ী করে ওয়াসাকে। এর থেকে বের হয়ে সবাইকে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করার আহ্বান জানান স্থপতি।

 

"