নিষেধাজ্ঞার পরও প্রগতি সরণিতে চলছে রিকশা

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিষেধাজ্ঞার ৬ দিন পরও রিকশা চলছে রাজধানীর প্রগতি সরণির কয়েকটি জায়গায়। পুলিশ বলছে, তাদের চোখ এড়িয়ে কয়েকটি রিকশা উঠে পড়ছে মূল সড়কে। তবে যেখানেই পুলিশ দেখছে, সেখান থেকেই রিকশাগুলো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় প্রগতি সরণির উত্তর বাড্ডা এলাকায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবাধে চলছে রিকশা। চালকদের দাবি, মাঝে মাঝে পুলিশ বাধা দেয়। তারপরও নজর এড়িয়ে মূল সড়কে চলাচল করেন তারা। দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, প্রধান সড়কে রিকশা দেখলেই ভেতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে দু-চারটে পাশ কেটে চলে যায় বলে স্বীকার করলেন তিনিও।

এদিকে, ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ এবং মিরপুর রোডে গাবতলী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়ক ছিল অনেকটাই ব্যতিক্রম। এ দুই সড়কে দেখা যায়নি খুব বেশি রিকশা। ট্রাফিক পুলিশের কড়া নজরদারির কথাও জানালেন চালক ও যাত্রীরা।

প্রগতি সরণিতে যানজট কমানোর জন্য রিকশার আলাদা লেন করা হয়েছিল। তবে তা বেশি দিন টেকেনি। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলায় এখন তা বন্ধ। মূল সড়কে অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই ছুটছে রিকশা। ফলে সারাক্ষণ এই ব্যস্ত রাস্তায় যানজট লেগেই থাকছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ নতুনবাজার থেকে সুবাস্তু টাওয়ার পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে রিকশার জন্য আলাদা লেন চালু করে। প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত এ সড়কে আলাদা এই রিকশার লেন ছিল ৮ ফুট চওড়া। প্লাস্টিকের খুঁটি ও নাইলনের দড়ি দিয়ে অস্থায়ী লেনটি করা হয়। পরিকল্পনা ছিল সফল হলে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত লেনটি বিস্তৃত হবে।

গতকাল রোববার প্রগতি সরণিতে দেখা যায়, রিকশার কোনো লেন নেই। রিকশাগুলো চলছে মূল সড়কে। রিকশাচালক মোখলেস উদ্দিন বলেন, ‘দুই মাসের মতন লেন আছিল। পরে ড্রেন কাটলে বন্ধ হইয়া যায়।’ তিনি আরো বলেন, লেন যত দিন ছিল, তাদের জন্য সুবিধাই হতো। বাস-গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার ভয় ছিল না।

নতুনবাজারের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বলেন, ভালোই চলছিল। সিটি করপোরেশনের নালা নির্মাণের কাজ শুরু হলে লেন বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া সড়কটিতে বাস দাঁড়ানোর আলাদা কোনো জায়গা নেই। লেন হওয়ার পরে বাসগুলো সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যেত। সুবিধার পাশাপাশি সমস্যাও ছিল।

এ সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী নাঈম আহমেদ বলেন, জ্যামটা কমে গিয়েছিল। সব গাড়ির জন্যই সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু চলল না তো।

"