স্বপ্ন ভেস্তে গেছে ঐক্যফ্রন্টের!

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জৌলুস, তৎপরতা, কর্মকা-, জোট নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল, গণমাধ্যমের আগ্রহ-কোনো কিছুর কমতি ছিল না। খালেদা জিয়ার জায়গায় ড. কামাল হোসেন এবং কা-ারিহীন বিএনপির জায়গায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়ে ওঠে বিরোধী রাজনীতি চর্চার বড় প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু সেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে। এই জোটের আয়ু, কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে আছেন খোদ এর উদ্যোক্তরা। এরই মধ্যে জোটের অন্যতম শরিক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম এই জোট থেকে বেরিয়ে গেছেন। ফলে এই জোট বেঁধে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন ভেস্তে গেছে অনেক আগেই। এখন সামনে এগিয়ে চলার স্বপ্নও ফিকে হতে বসেছে।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ধানের শীষের ভোটব্যাংক কাজে লাগিয়ে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতারা। আর বিএনপি চেয়েছিল খালেদা জিয়ার অবর্তমানে ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের মতো জাতীয় নেতাদের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে।

কিন্তু নির্বাচনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের ফলে তাদের কারো স্বপ্নই পূরণ হয়নি। কেবল মাত্র গণফোরামের দুজন প্রার্থীর লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। বিএনপির ভোটব্যাংক কাজে লাগিয়ে গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবদিক বিবেচনায় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম-ই লাভবান হয়েছে। সেজন্য এ দলটিই কেবল ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে এখনো আগ্রহ দেখাচ্ছে। অন্যদের মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সে কারণেই ৩০ এপ্রিলের পর ঐক্যফ্রন্টের কোনো কর্মকা- দৃশ্যমান হচ্ছে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দীর্ঘ এক বছর চেষ্টার পর গত বছর ১৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। আত্মপ্রকাশের দিন জোটে শরিক দল ছিল বিএনপি, ড. কামাল হোসন নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, আ স ম আবদুর রব নেতৃত্বাধীন জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্না নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য। পরে এই জোটে যোগ দেয় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

নির্বাচনে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর খোদ উদ্যোক্তারাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে বসেন। নির্বাচনের পরই ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির দুই সদস্য বিএনপির নীতিনির্ধারক ড. খন্দকার মোশাররফ ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জোট থেকে সরে দাঁড়ান। তাদের জায়গায় ড. মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে দায়িত্ব দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো কর্মকা-ে গয়েশ্বরকে দেখা যায়নি।

এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিবকেও ফ্রন্টের কোনো কর্মকা-ে দেখা যায়নি। ঐক্যফ্রন্টের (ঢাকা মহানগর) সমন্বয়ক বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামকেও এখন আর জোটের কোনো কর্মকা-ে দেখা যায় না।

জানতে চাইলে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়টি এখন আমাদের মহাসচিব দেখেন। ওখানে আমাদের আর খুব একটা যাওয়া হয় না। নির্বাচনের আগে জোটে অনেক কর্মকা- হতো। এখন কর্মকা- কম। আমাদের উপস্থিতিও কম।

এদিকে জোটের বাকি শরিকরাও ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান। জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জোট নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম কয়েক দফা সংবাদ সম্মেলন করে জোটের ব্যাপারে তার অনাগ্রহের বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না জোট নিয়ে খুব একটা তোড়জোর দেখাচ্ছেন না। আর জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব অনেক দিন ধরেই নীরব রয়েছেন। কেবল গণফোরাম নেতাদের মধ্যে জোট নিয়ে কিছুটা আগ্রহ দৃশ্যমান।

 

"