নারীদের জন্য আইন শিথিল করছে সৌদি আরব

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

সৌদি আরবে বাধ্যতামূলক পুরুষ অভিভাবকত্ব আইন শিখিল করার পরিকল্পনা করছে সরকার। সৌদি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চলতি বছরেই ১৮ বছরের বেশি বয়সের নারীদের

জন্য ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি কমে যাবে। সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাধা দূর হলেও সব বাধা দূর হয়নি এখনো। দেশটিতে ‘কঠোর অভিভাবকত্ব আইন’ বহাল থাকায় তাদের এখনো বাধা দিতে সক্ষম তাদের পুরুষ অভিভাবকরা। সৌদি আরবই বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তবে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতিসহ কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সৌদি সরকার উচ্চাকাক্সক্ষী পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও এখনো দেশটিতে নারীদের জন্য অন্যতম বড় বড় কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে ২১ বছরের কম বয়সি পুরুষদেরও বিদেশ ভ্রমণের আইন শিথিল হচ্ছে। আগে পরিবারের অন্য পুরুষ সদস্যের অনুমতি লাগলেও নতুন আইনে সেই বিধিনিষেধ থাকছে না। এছাড়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওকাজ-এ নারীদের ভ্রমণের নিয়মাবলি শিথিলেরও আভাস মিলেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ পুরুষের অভিভাবকত্ব চাপিয়ে দিয়ে নারীদের দ্বিতীয় শ্র্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে। এখনো বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে নারীদের পুরুষের অনুমতি নিতে হয়। বিয়ে, তালাক ও পাসপোর্ট নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত কোনো নারী একা নিতে পারেন না।

দেশটির এমন আইনের সমালোচনা চলে আসছে অনেক বছর ধরে। সম্প্রতি এক সৌদি নারী দেশ থেকে পালিয়ে এলে এই সমালোচনা আরো জোরালে হয়। সর্বশেষ কানাডায় শরণার্থী হিসেবে আশ্র্রয় নিয়েছেন তিনি। সৌদি রাজপরিবারের এক সদস্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালকে বলেন, এটা নিশ্চিত যে আমাদের নেতা, সরকার এবং জনগণে এই পদ্ধতির পরিবর্তন চান। কোনো রকম সমালোচনা এড়িয়ে কত তাড়াতাড়ি এটি বাস্তবায়ন করা যায় সেটা নিয়েই আলোচনা চলছে। আরেকজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ভ্রমণ-সংক্রান্ত সংস্কারের চিন্তা একদম ‘উপর’ থেকে এসেছে।

তবে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাবে খবর আসার পর মিশ্র্র প্রতিক্রিয় দেখা গেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য ও ?উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক সারাহ লি উইটসন বলেন, আমরা আশা করছি, এটা সত্যি। তবে সরকারি কোনো ঘোষণা না আসার ব্যাপারটা এখনো পরিষ্কার নয়। সেক্ষেত্রে এটা কোনো অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসও হতে পারে। সৌদি যুবরাজ হয়তো সত্যিই এই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন।

সৌদি অ্যাক্টিভিস্ট ও ম্যাসাচুয়েটস ইনস্টিটিউটট অব টেকনোলজির শিক্ষক হালা আল দোসারি বলেন, যদি এটা হয়ে থাকে তবে অন্য দেশে সৌদি নারীদের আশ্রয় প্রার্থনার হার অনেক বেড়ে যাবে। একইসঙ্গে যুবরাজের জনপ্রিয়তাও বাড়বে বহুগুণ। এর আগেও সৌদি আরবের চিরাচরিত ধারা ভেঙে সংস্কারের চেষ্টা করেছিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ২০১৮ সালে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। চাকরি ও বিশ্ববিদালয়ে ভর্তির জন্য পুরুষ অভিভাবকের অনুমতির ব্যাপারটিও তুলে নেওয়া হয়।

 

"