কায়রোতে সবুজের ছোঁয়া আনতে অভিনব উদ্যোগ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাপও মরলো, লাঠিও ভাঙলো নাÑ এমন সমাধান সূত্র কে না চায়। কায়রো শহরে দরিদ্র এলাকায় ছাদের ওপর বাগান বসিয়ে পরিবেশ ও অর্থনীতির উন্নতির চেষ্টা চালাচ্ছে এক এনজিও। মোহামেদ তাহা প্রতিদিন নিজের বাগানের পরিচর্যা করেন। এল বাসাতিন এলাকার মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে তিনি তিন বছর ধরে ছাদের বারান্দায় নানা ধরনের শাকসবজির চাষ করছেন। তার প্রচেষ্টায় কায়রো শহরের কংক্রিটের জঙ্গলের মধ্যে একফালি সবুজের ছোঁয়া এসেছে। মোহামেদ বলেন, আমি মূলত এই এলাকা ও ছাদের ওপর পরিষ্কার এক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। এর বেশি কিছু নয়। এতে যা আয় হয়, তা মসজিদের চ্যারিটি ট্রাস্টে চলে যায়।

তিনি প্রায়ই নিজের নাতনিকে সঙ্গে আনেন। সে কাঁচা বাঁধাকপি খেতে ভালোবাসে। মোহামেদকে চাষের সরঞ্জামের দাম মেটাতে হয়নি। কায়রো-ভিত্তিক সংগঠন শাদুফ বিনামূল্যে সব বন্দোবস্ত করেছে। আট বছর আগে শেরিফ হোসনি ও তার ভাই এই এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। তারা হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতি প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তাতে খুব কম পানির প্রয়োজন হয়। মাটিও লাগে না। প্রায় যে কোনো ছাদের উপরেই কার্যকর এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। শেরিফ হোসনি বলেন, এমন প্রকল্প স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য বিশেষভাবে কার্যকরী হয়। ছাদে বাগান বসিয়ে শাকসবজি বিক্রি করে তাদের আয় কিছুটা বাড়াতে পারে। ফলে শুধু পরিবেশগত নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ সুবিধা বয়ে আনছে। হেলাওয়ানের মতো অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এলাকায় বাড়ির ছাদ প্রায়ই পুরোনো আবর্জনায় ভরে থাকে। শাদুফ সেখানে ৫০০ বাগান তৈরি করেছেন। সেখানে একটি ভবনের বাসিন্দারা মাসতিনেক আগে তাদের মাইক্রো ফার্ম গড়ে তুলেছেন। এবার প্রথম ফসল তোলার সময় এসেছে। ওম মোহামেদ এই উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন। তিনি বলেন, খুব সুন্দর। সবাই যদি এমনটা করতেন! যাদেরই খালি জায়গা রয়েছে, তাদের এমনটা করা উচিত। এখানে ছাদ তো কাজেই লাগে না। খবর দ্য ডেইলি মেইল

 

"