শিশুর নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, শিশুদের নিরাপত্তায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বেশ কিছু আইনও তৈরি করা হয়েছে। এর পরও সমাজে কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ রয়েছে। তারা শিশুদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছে। এজন্য সচেতন মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন তিনি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানের এক হোটেলে সমকাল ও ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শিশুবান্ধব স্থানীয় সরকার : বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

দৈনিক সমকাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের মনিটরিং ও মূল্যায়ন এবং পরিবীক্ষণ উইংয়ের মহাপরিচালক নিখিল রঞ্জন রায়। এ ছাড়া আরো বক্তব্য দেন জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (গবেষণা ও পরিকল্পনা) মো. আব্দুল মালেক, নর্দান বাংলাদেশ রিজিওনের রিজিওনাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড চাইল্ড প্রটেকশন কো-অর্ডিনেটর মো. জামাল উদ্দিন, ওয়ার্ল্ডভিশনের রিজিওনাল ফিল্ড ডিরেক্টর বুলি হাগিদক প্রমুখ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ডভিশনের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড জাস্টিস ফর চিলড্রেন ডেপুটি ডিরেক্টর সাবিরা নূপুর।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এটা উদ্ভাবিত নয়, জন্মগতভাবেই আমরা বিশ^াস করি।’ ওয়ার্ল্ডভিশনের জরিপ অনুযায়ী, ৮২ ভাগ শিশু ১৪ বছরের আগেই বিভিন্নভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এ তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকেই চারপাশের পরিবেশ বিবেচনা করবেন। দেখবেন সহিংসতার হার এত বেশি নয়। তবে কিছু বিকৃত মানসিকতার লোক বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে। এটা অস্বীকার করছি না। তবে ইতিবাচক-নেতিবাচক যাই হোক, যেকোনো বিষয়েই সঠিক তথ্য থাকতে হবে। তা হলে কাজ করতে সহজ হবে। সরকারও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’

মন্ত্রী বলেন, সুবিধাজনক সময়ে ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিশুর অভিযোগ ও বক্তব্য শোনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের যতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে, সবখানেই নির্দেশনা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হবে।

তিনি আরো বলেন, জনগণকে সব ধরনের সেবা দিতে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের উপযোগী করে তোলা হবে। যাতে শিশুদের বিষয়টি যেন উপেক্ষিত না হয়। শিশুদের বিষয়ে করণীয় কী? সে বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের পরিচালককে নির্দেশ দেন তিনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) নিখিল রঞ্জন রায় বলেন, সরকার স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের জন্য বিভিন্নভাবে কাজ করছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগে মোট বাজেট ছিল ২৫১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে শিশুদের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এই টাকা ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ‘ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেষ্ট’ (আইএসপিপি) এবং ১২টি সিটি করপোরেশনে ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিস ডেলিভারি প্রকল্পের’ মাধ্যমে দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় করা হয়েছে। তবে শিশুদের কল্যাণে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়; সেই অর্থ অনেক ক্ষেত্রে তাদের কল্যাণে ব্যয় হয় না। এ ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। তিনি শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক ক্যাম্পেইন বাড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

 

"