৬ দফা দাবিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের আমরণ অনশন

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাকরিসহ ৬ দফা দাবিতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার সামনে সড়ক অবরোধ করে আমরণ অনশন করেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। সরকারি চাকরিতে তাদের সুযোগসহ ছয় দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সংগঠন ‘চাকরিপ্রত্যাশী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের’ ব্যানারে অনশন শুরু হয়।

তাদের দাবিগুলো হলোÑ নবম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চাকরিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ দিতে হবে। গত ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের দশম গ্রেডভুক্ত ৩৮ নম্বর রিসোর্স শিক্ষক পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে, ওই পদে ব্রেইল পদ্ধতিতে পাঠদানের জন্য শুধু উপযুক্ত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়োগ দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রুতিলেখক নীতিমালা-২৫-এর বি-উপধারা অনুযায়ী সরকারিসহ স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চাকরির পরীক্ষায় ওই আইন মেনে চলার নিশ্চয়তা দিতে হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা করে মাসিক বেকার ভাতা দিতে হবে। বিশেষ ব্যবস্থায় চাকরির সুযোগ প্রদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের প্রতি বছর একবার বিশেষ ব্যবস্থায় সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত চাকরিতে নিয়োগ দিতে হবে এবং তীব্র মাত্রারূপে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বস্তরে কাজের সুযোগ দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে সরকারি ও বেসরকারি কোনো চাকরিতেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা সুযোগ পাচ্ছেন না। সারা দেশে তিনশোর বেশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট রয়েছেন। যারা জীবনে যুদ্ধ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন। এই দীর্ঘ লেখাপড়ার পথে কী রকম কষ্ট করতে হয়েছে, তা আমরা জানি। কিন্তু আমরা গ্র্যাজুয়েট হয়েও কোনো চাকরি পাচ্ছি না। রাষ্ট্র কোনো সুযোগ দিচ্ছে না। যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আগে চাকরি দিত, তারাও বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা কোথায় যাব? সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনেক প্রকল্প আছে, তবে সেগুলো আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনে অবদান রাখে না।

পরিষদের আহ্বায়ক আলী হোসেন বলেন, আমরা গত রোববার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দাবি আদায়ের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে সরকারের কেউ দেখা করেনি। কেউ কোনো আশ্বাস দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছি। তিনি বলেন, দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাব।

 

"