সেনাপ্রধানের জাতিসংঘ সদর দফতর পরিদর্শন

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ জাতিসংঘ সদর দফতর পরিদর্শনে গিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তিনি গত ৮ ও ৯ জুলাই সদর দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি জাতিসংঘ সদর দফতরের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পৌঁছালে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন সেনাবাহিনী প্রধানকে স্বাগত জানান। পরে তিনি সেনাপ্রধানকে বাংলাদেশ মিশনের কর্মপরিধি সম্পর্কে অবহিত করেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। গতকাল বুধবার আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরে সেনাবাহিনী প্রধান সেক্রেটারি জেনারেলের সামরিক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কর্লোস উমবার্তোলতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সামরিক উপদেষ্টা বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব ও মানবিক কর্মকা-ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ থেকে একজন ফোর্স কমান্ডার নিয়োগের ব্যাপারে প্রস্তাব দেন। সামরিক উপদেষ্টা শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে একজন ফোর্স কমান্ডার নিয়োগের বিষয়ে আশ্বাস দেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, স্পেশাল ফোর্স ও র‌্যাপিডলি ডেপ্লয়েবল ব্যাটালিয়ান মোতায়েনেরও প্রস্তাব দেন।

এ সময় সামরিক উপদেষ্টা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানকে জাতিসংঘ সদর দফতরে একজন কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স জেনারেশন প্রধান হিসেবে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশের ৩১ বছর শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণে প্রথম এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশকে নির্বাচন করা হলো। পাশাপাশি সামরিক উপদেষ্টা রোহিঙ্গা নাগরিকদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে, সেনাবাহিনী প্রধান অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট মিসলিসা এম বাটেন হেইমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে সেনাবাহিনী প্রধান জাতিসংঘ সদর দফতরে বাংলাদেশ সরকারের পাওনা ৬০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০০ কোটি টাকা) পরিশোধের অনুরোধ করেন। সেনাবাহিনী প্রধানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল তৎক্ষণাৎ আড়াই শ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। আর অবশিষ্ট অর্থ অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেন।

পরে সেনাবাহিনী প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল, পিস অপারেশনস মিস্টার জন পিয়েরেল্যাক্রয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে সেনাবাহিনী প্রধান ফরাসি ভাষাভাষী দেশগুলোতে বাংলাদেশের সেনা মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত করেন। বিশেষ করে চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সেনা পাঠানো বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক প্রস্তুতির বিষয়েও সেনাপ্রধান তাদের অবহিত করেন। সেনাবাহিনী প্রধানের এই পরিদর্শন জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।

 

"