শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বক্স বসানোর পরামর্শ হাইকোর্টের

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন বন্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বক্স বসানোর পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং নিরোধ কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদনসংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে গতকাল বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে বুলিং নিরোধ কমিটির নীতিমালার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্য জানাতে ২২ অক্টোবর দিন ঠিক করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক, সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়–য়া ও আইনুন নাহার সিদ্দিকা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার)।

পরে আইনুন নাহার সিদ্দিকা সাংবাদিকদের জানান, এ মামলার আজকে তারিখ ছিল। আদালত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ জানানোর জন্য দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বক্স স্থাপনের কথা বলেছেন। বুলিং নিয়ে যে নীতিমালা হচ্ছে তার মধ্যে এটিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন আদালত।

আদালত আরো বলেছেন, প্রতিটি স্কুলে শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগ শোনার জন্য একটি অভিযোগ বক্স খুলতে। শিশুরা তাদের নির্যাতনের অভিযোগগুলো মা-বাবা অথবা স্কুলের শিক্ষক, কারো কাছেই বলতে পারে না। সেক্ষেত্রে স্কুলে একটি অভিযোগ বক্স থাকলে সেখানে শিশুরা অভিযোগগুলো নির্ভয়ে তুলে ধরতে পারবে।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, এই অভিযোগ বক্সের বিষয়টি প্রচারণা করতে হবে। তাই তথ্য মন্ত্রণালয়কে এই মামলায় বিবাদী করা যায় কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখুন। একইসঙ্গে বুলিং (নির্যাতন) প্রতিরোধে যে কমিটি থাকবে সে কমিটির প্রধান যদি স্কুলপ্রধান হন এবং তার বিরুদ্ধেই যদি নির্যাতনের অভিযোগ আসে তাহলে কমিটি তদন্ত করবে কীভাবে? সেজন্য জেলা প্রশাসন পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে ওই কমিটিতে যুক্ত করা যায় কিনা সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিন।

প্রসঙ্গত, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দিয়েছিলেন।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন আদালত। তারই আলোকে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়।

 

"