দুর্গাপুরে আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

“রাজশাহীর দুর্গাপুরে চাঁদাবাজি মামলায় আদালতের পররোয়ানাভুক্ত আসমিদের সঙ্গে ‘গোপন সভা’ করেছেন দুর্গাপুর থানার ওসি আবদুল মোতালেব। গত রোববার বিকেলে দুর্গাপুর পৌরসভার ভবনে পরোয়ানাভুক্ত আসামি আজিজুর রহমান ও জালাল উদ্দিনের এবং ছিনতাই মামলার আসামি সামশুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি ও পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ‘গোপন সভা’ করেন।” এ দাবি করেছেন মামলার বাদী আবদুল আওয়াল। তবে মেয়র বলছেন, অন্য একটি কাজে ওসি পৌরসভায় এসেছিলেন। কোনো মামলার বিষয়ে তার সঙ্গে ওসি কিংবা আসামিদের বৈঠক হয়নি।

মামলা তিনটির বাদী দেবীপুর গ্রামের আবদুল আওয়াল নামে এক মাছচাষি। দুর্গাপুর সদরে তার মাছের খাবারের দোকানও রয়েছে। আওয়াল গত জুলাই থেকে অভিযোগ করে আসছিলেন, গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ার কারণে সম্প্রতি তার ২৫ বিঘার পুকুরে বিষ ঢেলে ৪০০ মণ মাছ নিধন করা হয়। পেড়ে নিয়ে যাওয়া হয় পুকুর পাড়ের গাছের আমও। এ নিয়ে দুটি মামলা করেন তিনি। এসব মামলায় পাঁচজনকে আসামি করেন। এদের মধ্যে শুধু একজন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

আওয়াল জানান, অন্য চারজন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ গ্রেফতার করেনি। এরই মধ্যে গত ২৮ জুন বাড়ি থেকে দোকানে টাকা নিয়ে যাওয়ার পথে পরোয়ানাভুক্ত আসামিরাই তাকে পিটিয়ে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। হাসপাতালে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে তিনি এ ঘটনায় আরেকটি মামলা করেন। এ মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়।

আওয়াল বলেন, তৃতীয় মামলার সাত আসামির মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। কিন্তু পুলিশ কোনো আসামিকেই গ্রেফতার করছে না। এরই মধ্যে গত রোববার বিকেলে দুর্গাপুর পৌরসভা কার্যালয়ে দুই পরোয়ানাভুক্ত আসামির সঙ্গে সভা করেন ওসি আবদুল মোতালেব। কিন্তু তখন তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। অন্য আসামিরাও ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ এখন মামলাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

তিনি বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার না করাই ২৮ জুনের ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকেই আমি, আমার ছোট ভাইসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে আসামিদেরই বাড়িঘর ভাঙচুরের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটিতে গত মঙ্গলবার আমরা সবাই আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছি। কিন্তু ওয়ারেন্ট থাকলেও পুলিশ আমার মামলার আসামিদের না ধরে ‘গোপন সভা’ করছে।

গোপন সভার বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পৌরসভা কার্যালয়ে যে কেউ আসতে পারেন। মামলার আসামিরাও হয়তো এসেছিল। তবে তাদের সঙ্গে আমি কিংবা ওসি বসিনি। ওসি পৌরসভায় এসেছিলেন অন্য একটি কাজে। তবে মেয়র তোফাজ্জল হোসেন মাছচাষি আবদুল আওয়ালের করা মামলাগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ওসি আমাকে জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ। মামলাগুলো মিথ্যা। ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আবদুল মোতালেব বলেন, সব মিথ্যা কথা। মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্ত চলছেই। আর আমি মেয়রের চাকরি করি না যে তাকে মামলার অগ্রগতি জানাতে হবে। এ সময় ওসি পৌরসভায় আসামিদের সঙ্গে গোপন সভা করার অভিযোগও অস্বীকার করেন। বলেন, আসামিদের তো খুঁজছি। পাওয়া গেলেই গ্রেফতার করা হবে।

 

"