শিকলে বন্দি মুন্না

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ফাইদুল ইসলাম, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)

সাত বছর বয়সে হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে মনোয়ারুল ইসলাম মুন্না। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছু দিন সুস্থ হয়ে উঠলেও পরে আবার আগের মতো অসুস্থ হয় সে। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে আর চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি মুন্নার। তখন থেকেই তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তার বয়স বর্তমানে ১৮ বছর। ১১ বছর ধরে শিকলবন্দি জীবন পার করছে মুন্না। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট (পাড়া) গ্রামে।

মুন্নার মা মনোয়ারা বেগম জানান, অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি।

মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় গত কয়েক বছর থেকে সে এলাকাবাসীর বিভিন্ন লোকসান করে। কারো গরু ছাগল দেখলে পেটাতে শুরু করত। বাদ পড়ত না অচেনা মানুষজনও। অনেকের সবজি খেত নষ্ট করত সে। মেয়ে মানুষ দেখলে ঝাপটে ধরার চেষ্টা করত। এমনকি নিজের পরিবারের লোকজনদের কাছে পেলে আঘাত করার চেষ্টা করত। এজন্যই পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে তাকে। গত সোমবার সকাল সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের চাওলার একটি ঘরের বারান্দায় শিকল পায়ে মাটিতে বসে আছে মুন্না। পরনে শুধু প্যান্ট ছাড়া আর কোনো কাপড় নেই। ৩ বোনের মধ্যে মুন্না সবচেয়ে বড়। তার বাবা মুনসুর আলী (৫৫) একজন সামান্য গরু ব্যবসায়ী।

বর্তমানে পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা মুনসুর আলী । তিনি বলেন, সামান্য একজন গরুর দালালির (ব্যবসায়ী) কাজ করি আমি। কাজ না থাকলে দিনমজুরের কাজ করি। দৈনিক ৩০০-৩৫০ টাকা এই টাকা দিয়ে সংসার চালাব না মুন্নার চিকিৎসা করব ভেবে পাই না। তারপরও বিভিন্নভাবে তার চিকিৎসা করছি। দৈনিক ১০০ টাকার ওষুধ লাগে মুন্নার। অবশিষ্ট টাকায় সংসারের খরচ চালাই। এভাবেই কষ্টের মধ্যে চলছে আমাদের জীবন। অর্থের অভাবে পুরোপুরিভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। আমি বাবা হয়ে আর ছেলের কষ্ট সইতে পারি না। সরকারিভাবে কিছু সহযোগিতা পেলে ছেলেটির চিকিৎসা করা যেত। প্রতিবন্ধী মুন্নার চিকিৎসা এবং পরামর্শ আশা করেন অসহায় বাবা।

এ ব্যাপারে ১০নং জাবরহাট ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। মুন্নাকে চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তার বাবাকে সহযোগিতা করব। সেখানে গেলে হয়তো সে ভালো হতে পারে।

 

 

"