জলবায়ু পরিবর্তন

প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের সমর্থন চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কে এম আবদুল মোমেন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা হচ্ছে উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ইস্যু। বাংলাদেশ এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। বাংলাদেশ এই পরিবর্তন মোকাবিলায় নানা পন্থা ও পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে সমর্থন চায়। জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর দুই দিনের এক বিশেষ আন্তর্জাতিক সভা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র এবং পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

দুই দিনব্যাপী জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলন-ঢাকা মিটিং অব দ্য গ্লোবাল কমিশন অন এডাপটেশন আজ মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে। যার আয়োজন করেছে পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ সভা শুরু হবে।

ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন গ্লোবাল কমিশন অন এডাপ্টেশনের (জিসিএ) চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। কাল বুধবার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় যোগ দিতে গতকাল ঢাকায় পৌঁছান বান কি মুন। এ সভা শেষে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনেও যাবেন তিনি। আসছেন মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের রাষ্ট্রপতি হিলদা হেইনে ও বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিওভাও। এছাড়াও জিসিএ’র কমিশনাররা এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আসছেন। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস আসতে পারেন।

এই বিষয়ে ড. মোমেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্যারিস চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় তা থেমে নেই বলে জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ড. মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় প্রোগ্রাম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে তা থেমে নেই। তাই কোনো সমস্যাও হবে না। আজ ও কাল ঢাকায় জিসিএ বৈঠক হবে। বৈঠকের সুপারিশগুলো সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে পেশ করা হবে এবং আশা করা হচ্ছে, এটি গৃহীত হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (এসডিজিবিষয়ক) মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জাতিসংঘের নেতৃত্বে জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৭ সালের এ চুক্তি থেকে যুক্তরাস্ট্রের সমর্থন তুলে নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্যারিস চুক্তি মার্কিন স্বার্থবিরোধীÑ এই যুক্তি দেখিয়ে এটা থেকে সরে যান ট্রাম্প।

এর আগে পরিবেশ বন ও জলবায়ুমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক জাতিসংঘ সদও দফতরে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে একটি বিশেষ ক্লাইমেন্ট সামিট হবে। এই সামিটকে সামনে রেখে ঢাকায় দুই দিনের জিসিএ’র সভা আয়োজন করা হচ্ছে।

পরিবেশ বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আরো জানিয়েছিলেন, সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা ও অবদান কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। এই সভায় চূড়ান্ত হওয়া অভিযোজন সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশেষ ক্লাইমেট সামিটে উত্থাপন করা হবে। যে কারণে এই সভা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের অভিযোজন প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

"