ঐক্যফ্রন্ট ছাড়লেন কাদের সিদ্দিকী

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আট মাসের গাঁটছড়া ছিঁড়ে কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে গেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। তার ভাষায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে যে জোট তারা গড়েছিলেন, নির্বাচনের পর গত সাত মাসে তার কোনো অস্তিত্ব এখন খুঁঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জাতীয় কোনো সমস্যাকে তারা তুলে ধরতে পারছে না। এ রকম একটি জোট যে আছে তা দেশের মানুষ জানেই না। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব বা ঠিকানা খোঁজার চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলে জনগণের সমস্যায় তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকারে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নতুন উদ্যমে পথচলা শুর করবে।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা সবসময় দেশবাসীর কাছে বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা করেছি, ভবিষ্যতে সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঐক্যফ্রন্ট সঠিকভাবে চলতে পারেনি।

তার অভিযোগ, ওই নির্বাচনের পর ফল প্রত্যাখ্যান করে সংসদে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নেতারা; কিন্তু সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ সংসদে যোগ দেন। পরে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সবাই যোগ দেন। প্রথমে যারা শপথ নেন, তাদের বহিষ্কার করা হয়। পরে বিএনপির নির্বাচিতরা যোগ দিলে তাদের স্বাগত জানানো হয়। নির্বাচনের আগে মনোনয়ন দেওয়ার কথা ছিল ডা. কামাল হোসেনের মাধ্যমে। কিন্তু মনোনয়ন দেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। এটা গুরুতর অন্যায় হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় না যে, এখানে কোনো অস্পষ্টতা আছে। সত্য কথা বলতে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। এর কোনো কর্মকা- নেই। সেজন্য সেখান থেকে আমরা চলে আসছি, সেখান থেকে যাচ্ছি। প্রত্যাহার হয়ে আসছি এই শব্দটা ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত মনে হয় না। সেজন্য বলেছি, তাদের খোঁজার চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলেছি। এর অর্থ আপনি যেটা বলেছেন সেটাকেই বোঝায়।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, রাজনীতি একটা প্রবাহমাত্রা নদীর মতো। গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের সঙ্গে আমাদের কাজ করা উচিত। সেক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টে যারা ছিলেন, তাদের সঙ্গেও ভবিষ্যতে কাজ করব না, এমন কোনো শর্ত নেই। কিন্তু নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করে যাব।

 

"