হালদায় মিশছে বিষাক্ত বর্জ্য হুমকিতে প্রাণবৈচিত্র্য

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

মীর আসলাম (চট্টগ্রাম) রাউজান

হাটহাজারী ১০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (পিকিং প্লান্ট) থেকে খাল-নালায় ছাড়া হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য। এসব বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে গড়িয়ে এসে পড়ছে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে। এতে ঝুঁকি ও নিঃশেষ হওয়ার হুমকিতে পড়েছে আশপাশ এলাকা ও এই নদীর প্রাণবৈচিত্র্য।

এলাকার লোকজনের অভিযোগ, এশিয়ান পেপার মিল ও হাটহাজারীর পিকিং প্লান্টের অভ্যন্তর থেকে প্রতিনিয়ত রাসায়নিক বর্জ্য বাইরে এসে পড়ে। বিষাক্ত এসব রাসায়নিক বর্জ্য বাইরে এসে পড়ার কারণে আশপাশের এলাকার জমির উর্বরতা হারিয়ে ফেলছে। এসব বর্জ্য যেসব জমিতে পড়ছে সেখানে কোনো ফলন হচ্ছে না। এখন বর্ষার পানির সঙ্গে বিষাক্ত তরল বর্জ্য খাল-নালা হয়ে হালদা নদীতে পড়ছে। হুমকি সৃষ্টি করছে নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর। ইতোপূর্বে শিল্প বর্জ্যে পানিদূষণের কারণে মারা গেছে মাছ, ডলফিনসহ নানা জাতের প্রাণী। কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন হালদা রক্ষা কমিটির নেতা ও পরিবেশবিদ, পানি বিশেষজ্ঞরা। এশিয়ার মৎস্যসম্পদের খনি হালদাকে রক্ষায় বর্জ্য নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। এ ইস্যুতে বছরের পর বছর আন্দোলন করে কার্যকর সাড়া না পাওয়ায় সবাই এখন হতাশ। হাটহাজারীর এশিয়ান পেপার মিল ও হাটহাজারীর পিকিং প্লান্ট এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে প্রতিনিয়ত রাসায়নিক বর্জ্য বাইরে এসে পড়লেও শুষ্ক মৌসুমে তা মানুষের নজরে আসত কমই। কারণ ওই সময় নির্গত বর্জ্যরে কিছু খাল-নালা হয়ে হালদায় পড়লেও অধিকাংশই তরল বর্জ্য চুষে নিয়ে যেত মাটির নিচে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের বিরুদ্ধে বর্জ্য নিক্ষেপের অভিযোগ তেমন আমলে নিতে রাজি ছিল না।

সূত্র মতে, বর্ষা শুরু হলে গোটা এলাকায় পানিতে টইটুম্বর থাকে। এ সময়টিকে লুফে নিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বর্জ্য নালার মাধ্যমে বের করে দেয় খাল-নালার পানির সঙ্গে। আর বিষাক্ত এসব শিল্প বর্জ্য গিয়ে পড়ে হালদা নদীতে। হালদা নদীর গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেছেন, মাটি ও নদীর পানি দূষণকারী আলোচিত দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের একাধিবার প্রমাণ হাজির করা হলেও পরিবেশ অধিদফতর এ নিয়ে অনেকটা লুকোচুরি খেলছে। এশিয়ান পেপার মিলকে তারা জরিমানা করে কিছু নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করেছে। অথচ দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করার উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা থাকলেও সেই নির্দেশনা মানা হয়নি।

এদিকে গতকাল ৮ জুলাই সোমবার সকালে বৃষ্টির মাঝে হাটহাজারী পিকিং প্লান্টের আশপাশ এলাকা পরিদর্শন করতে যান হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি পিকিং প্লান্টের অভ্যন্তর থেকে খাল-নালা হয়ে বিষাক্ত বর্জ্য বের হওয়ার স্রোত দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বৃষ্টির পানির সঙ্গে কীভাবে বিষাক্ত বর্জ্য পিকিং প্লান্টের অভ্যন্তর থেকে বাইরে আসছে, সেই চিত্র তার ক্যামরায় ধারণ করেন।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, পানি শিল্প বর্জ্যে দূষণের ভয়াবহতা দেখে অবাক হয়েছি। বিষয়টি পরিবশে অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানানো হবে।

"