ভুল ইনজেকশন, জ্ঞান ফেরেনি মুন্নির

চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ টাকা

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মরিয়ম সুলতানা মুন্নির জ্ঞান দেড় মাসেও ফেরেনি। ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। প্রতিদিন তার চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

ওই ছাত্রীর স্বজনরা জানান, গত ২০ মে পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে ওই ছাত্রী গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি হন। পরদিন তার অপারেশন করার কথা ছিল। ওইদিন সকালে ওই বিভাগের নার্স শাহানাজ পারভীন ভুল করে গ্যাসের ইনজেকশনের পরিবর্তে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করেন তাকে। ইনজেকশন পুশ করার পরই অজ্ঞান হয়ে পড়েন মরিয়ম। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিক বোর্ড বসিয়ে তাকে খুলনা আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠান। পরদিন সেখান থেকে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারপর থেকেই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন তিনি। এ ঘটনায় শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

অন্যদিকে এ ব্যাপারে গত ২৪ মে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ওই শিক্ষার্থীর চাচা জাকির হোসেন বাদী হয়ে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ড. তপন কুমার মন্ডল, নার্স শাহনাজ পারভিন ও কুহেলিকাকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

এদিকে, ২৬ মে বিকালে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ পারভিন ও কুহেলিকার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর শরীরে ভুল ইনজেকশন পুশ করার সত্যতা মিলেছে। এ ছাড়া সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. তপন কুমার মন্ডলকে ভবিষ্যতে আরো সতর্কতার সঙ্গে কর্তব্য পালনের সুপারিশ করা হয়েছে।

মুন্নির বড় ভাই হাসিবুল রুবেল বলেন, এখনো আইসিইউতে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে মুন্নি। চিকিৎসক বলেছেন, তার সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগবে। তবে আরো কত দিন লাগবে সুস্থ হতে, এ বিষয়ে চিকিৎসকরা কিছু বলতে পারেননি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন বলেন, সার্বক্ষণিক মুন্নির বিষয়ে খোঁজ রাখা হচ্ছে। তার পরিবারকে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। মুন্নির উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে আরো টাকা দেওয়া হবে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তরা হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে রোববার ডা. তপন কুমার মন্ডল ও নার্স কুহেলিকা গোপালগঞ্জের আমলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ূন কবির তাদের জামিন মঞ্জুর না করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিন নার্স শাহনাজ পারভিন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ মামলার তদন্তকাজ চলছে। তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

 

"